News

৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও ক্লান্ত লাগছে, এই ৫ অভ্যাস বদলান এখনই

রাতে সাত-আট ঘণ্টা গভীর ঘুমে ছিলেন। কিন্তু সকালের অ্যালার্ম বাজার পর বিছানা থেকে উঠতে গিয়ে মনে হচ্ছে মাথাটা ভারী হয়ে আছে। খুব ক্লান্ত লাগছে, যেন ঠিকমতো ঘুমই হয়নি। ঘুমঘুম ভাব কাটছেই না। এমন অভিজ্ঞতা কি আপনার প্রায়ই হয়?

মাঝেমধ্যে এমন হওয়াটা স্বাভাবিক হলেও, প্রতিদিনই যদি আপনার এ রকম অভিজ্ঞতা হয়, তাহলে কিন্তু সেটা মোটেই স্বাভাবিক না। এর পেছনে জড়িয়ে থাকতে পারে আপনার দৈনন্দিন জীবনের কিছু ক্ষতিকর অভ্যাস।

চিকিৎসকদের মতে, শুধু ৮ ঘণ্টা ঘুমালেই শরীরের ক্লান্তি দূর হয় না। বরং আমাদের প্রতিদিনের জীবনের কিছু ছোটখাটো ও ভুল অভ্যাস আমাদের অজান্তেই শরীরের সব এনার্জি শেষ করে দেয়। চলুন, সেই ক্ষতিকর ৫টি অভ্যাস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক –

ঘুমানোর আগে স্মার্টফোনে অতিরিক্ত সময় কাটানো

রাতে বিছানায় শুয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোন স্ক্রল করা কিংবা রিলস দেখার বদভ্যাস প্রায় সবারই আছে। কিন্তু এই অভ্যাসটি আপনার ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে। স্ক্রিন থেকে আসা নীল আলো আমাদের মস্তিষ্কে ভুল বার্তা পাঠায়। এর ফলে মস্তিষ্ক সজাগ থাকে এবং ঘুম আসতে বাধা দেয়।

ছবি: টিভি৯ বাংলা
ছবি: টিভি৯ বাংলা

আপনি হয়তো ভাবছেন ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন, কিন্তু ফোনের ক্ষতিকর আলোর কারণে সেই ঘুম আসলে যথেষ্ট গভীর হয় না। ফলে সকালে ঘুম ভাঙার পরও শরীরে ক্লান্তি থেকে যায়।

সকালের খাবার বাদ দেওয়া

সকালে তাড়াহুড়োয় নাশতা না করে অনেকে একেবারে দুপুরের খাবার খান। এই অভ্যাস রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার হুট করে কমিয়ে দেয়। এর ফলে দ্রুত শরীরের সব এনার্জি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। মাথা ব্যথা কিংবা ক্লান্তিভাব এসে পড়ে।

ছবি: ইটিং ওয়েল
ছবি: ইটিং ওয়েল

সাময়িকভাবে কোনো হালকা খাবার খেয়ে এনার্জি আনার চেষ্টা করলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। তাই শরীর চাঙা রাখতে হলে সকালের খাবার বাদ দেয়া যাবে না। প্রোটিনসমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খাওয়া

সারাদিন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকা হয়। এর মাঝে আলাদা করে পানি পান করার কথা অনেকেই ভুলে যান। শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পানি পান করা হয়। এখান থেকেই ডিহাইড্রেশনের শুরু, যা আপনার শরীরে ক্লান্তি ও ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে আসে। শুধু সাধারণ পানি নয়, শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সারাদিন কাজের ফাঁকে লেবু পানি, ডাবের পানি বা মাঠা জাতীয় পানীয় খেতে পারেন।

একটানা চেয়ারে বসে কাজ করা

প্রতিদিন অফিসে ৮ থেকে ৯ ঘন্টা একটানা বসে কাজ করতে হয়। এর মাঝে হাঁটাহাঁটি করার সুযোগও খুব থাকে। সারাদিন একটানা এক জায়গায় বসে কাজ করা কিন্তু কায়িক পরিশ্রমের চেয়েও বেশি ক্লান্তিকর হতে পারে।

ছবি: আনন্দবাজার
ছবি: আনন্দবাজার

দীর্ঘক্ষণ শরীর একভাবে স্থির থাকলে পেশি শক্ত হয়ে যায় এবং রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। তাই কাজের ফাঁকে প্রতি এক ঘণ্টা পরপর কয়েক মিনিট একটু হাঁটাচলা করার চেষ্টা করুন। শরীরকে একটু সচল রাখুন। এই ছোট অভ্যাসটি আপনার শরীরের জড়তা কাটিয়ে ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করবে।

অতিরিক্ত চা বা কফি পান করা

ক্লান্তি বা ঘুমঘুম ভাব এলে চা বা কফিতে চুমুক দেন না এ রকম মানুষ খুব কমই আছেন। ক্লান্তি দূর করতে চা বা কফি পান করা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইন আপনার ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে।

ছবি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
ছবি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

বিশেষ করে বিকেলের পর বা সন্ধ্যার দিকে ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় গ্রহণ করলে রাতের ঘুমে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। তাই চা-কফির পরিবর্তে ভেষজ চা বা সাধারণ গরম জল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

এরপরও ক্লান্তি না কমলে কী করবেন?

এই ছোটখাটো অভ্যাসগুলো শুধরে নেওয়ার পরও যদি দিনের পর দিন আপনার সকালের ক্লান্তি না কাটে, তবে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। শরীরে পুষ্টির ঘাটতির কারণে এমন হতে পারে। বিশেষ করে শরীরে আয়রন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২ এর অভাব কিংবা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে এমনটা হতে পারে। তাই দেরি না করে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে একটি রুটিন ব্লাড টেস্ট করিয়ে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সূত্র: টিভি ৯ বাংলা

source: Asia Post

Back to top button