News

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন, এআইকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রশ্ন ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০২৯ সালে মেয়াদ শেষ হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া পুনরায় এই পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না তিনি।

তাই মেয়াদ শেষের পর উত্তরাধিকার হিসেবে ক্ষমতার মসনদে কে বসবেন বা কে হবেন পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রশ্ন করেন ট্রাম্প। এআইর দেওয়া উত্তর থেকে তিনি ধারণা পেতে চান যে, পরবর্তী রাষ্ট্র ক্ষমতায় তার দল রিপাবলিকান পার্টি থেকে কিংবা তার পছন্দের কেউ নির্বাচিত হতে পারেন কি না।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হোয়াই হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রযুক্তিবিদ ও ধনকুবের ইলন মাস্কের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই বৈঠকে মাস্কের মালিকানাধীন এআই চ্যাটবট ‘গ্রক’-কে নিজের প্রেসিডেন্ট পদের ভবিষ্যত নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন তিনি। এমনকি ক্ষমতার মেয়াদ শেষে হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে হবেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন করেন। আর এই প্রশ্নপর্ব চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

ওই বৈঠকে উপস্থিত হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদন আরও উল্লেখ করা হয়, সেসময় ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার নৌকাগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিচ্ছিলেন। এসব নৌকার বিরুদ্ধে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ এনেছিলেন। ট্রাম্প ‘গ্রক’কে প্রশ্ন করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে, তাহলে ভেনেজুয়েলার জনগণ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।

ওই কর্মকর্তার মতে, চ্যাটবটটি উত্তর দেয়, মাদুরো একজন দমনমূলক ও অত্যন্ত অজনপ্রিয় স্বৈরশাসক এবং অনেক ভেনেজুয়েলান সম্ভবত তার পতনে উল্লাস করবে। পরের মাসে ট্রাম্প মাদুরোকে গ্রেপ্তারের অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার পর রাস্তায় রাস্তায় উল্লাস শুরু হয়।

গ্রকের এই উত্তর ট্রাম্পকে বেশ প্রভাবিত করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। টাইমের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই বৈঠকের পরের মাসেই মাদুরোকে আটক করার জন্য একটি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। পরে রাস্তায় মানুষকে উদ্‌যাপন করতেও দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের বরাতে টাইম জানায়, এই অভিজ্ঞতার পর গ্রকের সক্ষমতা সম্পর্কে ট্রাম্পের ধারণা আরও ইতিবাচক হয়। তিনি চ্যাটবটটিকে ‘অসাধারণ বুদ্ধিদীপ্ত’ বলে মনে করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছিল। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের নির্বাহীদের সঙ্গেও তিনি আরও ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ করছিলেন বলে টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

source: Asia Post

Back to top button