জমি না থাকায় আটকে ছিল সরকারি চাকরি, এমপির হস্তক্ষেপে নিয়োগপত্র পেলেন তাসলিমা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও পরিবারের নিজস্ব ভূমি না থাকায় নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন কুমিল্লার লালমাই উপজেলার তাসলিমা। এ নিয়ে তার অটোরিকশাচালক বাবার কান্নার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নজরে আসে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মনিরুল হক চৌধুরীর।
পরে তিনি জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তাসলিমার নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও তাসলিমা নিজে।
লালমাই উপজেলার ভূলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের পরতি গ্রামের তাসলিমার বাবা অহিদুর রহমান পেশায় অটোরিকশাচালক। ছয় সন্তানের সংসারে অভাবের মধ্যেও দিন-রাত অটোরিকশা চালিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা করিয়েছেন তিনি।
পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাসলিমা নিজের মেধা ও যোগ্যতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক উত্তীর্ণ হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। নিয়োগের শেষ পর্যায়ে এসে পরিবারের নিজস্ব ভূমি না থাকার বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এতে তার চাকরি হবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে পরিবারটি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাসলিমার বাবা অহিদুর রহমানের কান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমার কইলজাডা ফাডি যায়। শুধু জমি না থায়নে আমার মাইয়ার চাকরি অয় না।’
অহিদুর রহমান বলেন, ‘আমার অভাবের সংসার। অনেক কষ্ট করে মাইয়াডারে পড়াশোনা করাইছি। কত দিন না খাইয়া থেকেও ও পড়ছে। মাইয়াডা খুব মেধাবী আছিল। নিজের যোগ্যতায় চাকরির পরীক্ষায় পাস করছে, ভাইভাও দিছে। এখন শুধু আমার ভূমি নাই এই কারণে যদি চাকরিটা না হয়, তাইলে আমি কী করমু?’
তিনি আরও বলেন, ‘মাইয়ার চাকরি হইছে এই খবর শুনে কত খুশি হইছিলাম। ভাবছিলাম, এতদিনের কষ্ট শেষ হইছে। কিন্তু এখন শুনতেছি, একটা খতিয়ান না থাকার কারণে চাকরি হবে না। এই কথা শুনে আমার গুদ্দাডা ফাডি যায়।’
পরে বিষয়টি এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর নজরে আসে। তিনি জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তাসলিমার নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার কথা জানানো হয়।
তাসলিমা বলেন, ‘কোনো এক অজানা কারণে আমার নিয়োগটি স্থগিত হয়েছিল। বিষয়টি এমপির সহায়তায় সমাধান হয়েছে। এখন আমার নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছি। এমপি সাহেবকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।’
কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরী বলেন, ‘নিয়োগের সময় এখনও শেষ হয়নি। তবুও বিষয়টি এমপি মহোদয় বলাতে গুরুত্ব দিয়ে চাকরির কাগজপত্র তাকে দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মেয়েটি ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে পাস করে প্রাইমারি চাকরির পরীক্ষায় টিকলেও ভূমির জন্য নাকি চাকরি হয় না। এমন বিষয়টি ডিসি ও ডিপিওকে জানালে আজকে জানালো মেয়েটির চাকরি নাকি কনফার্ম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মেয়েটিকে পরে বললাম, কে তোমাকে বলছে ভূমির জন্য চাকরি হবে না। পরে সে জানায়নি। কোনো বাপের বেটা যদি বলে চাকরি হবে না, তাহলে আমি বলতে পারি, তার চাকরি থাকবে না।’
source: Asia Post







