News

ভিডিও ভাইরাল/ক্যামেরা চালু করে শিশুকে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করছেন মা!

ঘরের বাঁশের আড়ায় ঝুলছে ওড়না। এক হাতে নিজের শিশু সন্তান, অন্য হাতে মোবাইল ফোন। ক্যামেরা চালু করে শিশুটিকে কোলে তুলে চৌকির ওপর দাঁড় করিয়ে গলায় ওড়না পেঁচানোর চেষ্টা করছেন মা। আর্তনাদ করে শিশুটি বলছে—‘আমাকে বাঁধিও না, ছেড়ে দাও।’

এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্যের ৫৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে ঘটনাটি তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনাটি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের। আটক বিথী আক্তার ওই গ্রামের মালদ্বীপ প্রবাসী আব্বাস আলীর স্ত্রী।

পরে শিশুটির মা বিথী আক্তারকে (৩০) আটক করা হয়। একই সঙ্গে তার দুই সন্তানকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, টিনশেড ঘরের বাঁশের আড়ায় একটি ওড়না ঝুলছে। মোবাইল ফোনে ভিডিও অপশন চালু করে এক হাতে শিশুটিকে জোর করে কোলে তোলেন মা। এরপর তিনি চৌকির ওপর উঠে শিশুটিকে উঁচু করে ওর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি হাত-পা ছুড়ে কাঁদতে থাকে এবং বারবার বলতে থাকে, ‘আমাকে বাঁধিও না, ছেড়ে দাও, আমাকে ছেড়ে দাও।’

শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘরের দরজায় জোরে আঘাত করতে থাকেন। স্থানীয়দের চিৎকারের একপর্যায়ে শিশুটিকে ছেড়ে দেন ওই নারী। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। শিশুটির ফুফু রনি বেগম থানায় ফোন করে ঘটনাটি পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিথী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। একই সঙ্গে তার দুই শিশুসন্তানকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিথী আক্তার জানান, স্বামীকে ভিডিওটি পাঠানোর উদ্দেশ্যে তিনি এ কাজ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিথী আক্তারের স্বামী আব্বাস আলী প্রায় আট বছর ধরে মালদ্বীপে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশে আসেন না এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না।

পুলিশের কাছে বিথী দাবি করেছেন, স্বামীকে ভিডিওটি পাঠানোর উদ্দেশ্যেই তিনি শিশুকে ফাঁস দেওয়ার এমন চেষ্টা করেন। তবে এটি ঘটনার প্রকৃত কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এর উৎস শনাক্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করে। বর্তমানে ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।

এদিকে, শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাকে এবং তার অপর ভাই-বোনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

source: Asia Post

Back to top button