News

সকালে নাশতা খেতে বের হয়ে ফেরেননি, সন্ধ্যায় কর্মস্থলে মিলল মরদেহে

কুমিল্লা নগরীর একটি ভবনে কাজ করার সময় বিরতিতে নাশতা খাওয়ার জন্য বের হয়ে না ফেরা এক রংমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ভবনের লিফটের নিচ থেকে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর কুমিল্লা হাউজিং এস্টেটের এক নম্বর সেকশনের একটি ভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে, এদিন সকাল ১১টার সময় তিনি নাশতা খাওয়ার জন্য ওই ভবন থেকে বের হয়েছিলেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মৃত কিরণ মিয়া কুমিল্লা নগরীর দ্বিতীয় মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা সুন্দর আলীর ছেলে। তার কপাল ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকে ভবনটিতে কাজ করছিলেন কিরণ মিয়া। ১১টার দিকে নাশতা খাওয়ার কথা বলে বের হন তিনি। সারা দিন পার হয়ে গেলেও তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসেননি। বাড়িতেও যাননি বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

সন্ধ্যার দিকে তার কর্মস্থল ওই ভবনে তাকে খোঁজা শুরু হয়। ভবনের লিফট পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছিল। একপর্যায়ে লিফটের মেকানিক রেটজিটেক লিমিটেডের রাজু ঘটনাস্থলে এসে লিফট খুলে দেন। পরে ক্যাপসুল লিফটের নিচে কিরণ মিয়ার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

রেটজিটেক লিমিটেডের কর্মচারী রাজু জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর তিনি ঘটনাস্থলে যান। তখন ভবনের লোকজন কিরণ মিয়াকে খুঁজছিলেন। লিফটে কেউ আছেন কি না, সেটিও দেখার চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে লিফট খুললে নিচে মরদেহটি পাওয়া যায়।

অভিযোগ রয়েছে, ভবনটির সিসিটিভি ব্যবস্থা থাকলেও সেটা বন্ধ ছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল বলেন, লিফটটি জেনারেটরের মাধ্যমে চলছিল। একপর্যায়ে লিফটটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে লিফট কীভাবে বন্ধ হলো এবং কিরণ মিয়া কীভাবে এর নিচে গেলেন, তার রহস্য প্রশাসন যেন বের করে। গরীব পরিবার দেখে টাকা দিয়ে যেন ঘটনা ধামাচাপা না দেওয়া হয়।

ভবন মালিক খোরশেদ আলম বলেন, আমরা সারা দিন খুঁজেও তাঁকে পাইনি। পরে ধারণা করি, তিনি হয়তো এখানে থাকতে পারেন। এরপর লিফটের নিচে খোঁজ করে মরদেহ পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থলে থাকা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপিরদর্শক (এএসআই) শরীফ আহমেদ বলেন, বাড়ির মালিক ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। অনেক লোকজন জড়ো হয়েছিলেন। এখন আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, আমাদের ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

source: Asia Post

Back to top button