News

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গ্যালন ছাড়াল ৬ ডলার

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে। এক বছর আগে একই সময়ে এই দাম ছিল ৩ দশমিক ৭১ ডলার।

বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ দশমিক ০৬ ডলার, যা এক সপ্তাহ আগের ৫ দশমিক ৮৫ ডলারের তুলনায় ২১ সেন্ট বেশি।

দাম বৃদ্ধির এ তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল সংগঠন এএএ। সংগঠনটি বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৭৬ ডলার। সেই হিসাবে এখন দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশেরও বেশি।

ডিজেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতি সরাসরি জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি পরিবহন খাতেও চাপ তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার বড় অংশ ট্রাক, রেল, কৃষিযন্ত্র, মাছ ধরার নৌযানসহ ডিজেলচালিত যান ও যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খরচও দ্রুত বাড়ে।

অন্যদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দামও বেড়েছে। শুক্রবার নিয়মিত পেট্রলের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ২৯ থেকে ৪ দশমিক ৩০ ডলার গ্যালন। ইরান যুদ্ধের আগে এই দাম ছিল প্রায় ২ দশমিক ৯৮ ডলার। তবে ২০২২ সালের সর্বোচ্চ প্রায় ৫ দশমিক ০২ ডলারের চেয়ে এখনও কম।

হরমুজে জট, কমছে জ্বালানি সরবরাহ

ডিজেল ও পেট্রলের দাম মূলত অপরিশোধিত তেলের দামের সঙ্গে ওঠানামা করে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

এর বড় কারণগুলোর একটি হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচলে বাধা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথটিতে যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, হুতিদের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে গত মাসে সৌদি আরবের তেল উৎপাদন প্রায় তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। একই সময়ে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দেশটির পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি প্রায় থমকে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তবে তিনি বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম কমার সম্ভাবনা কম।

ডিজেলের রেকর্ড দাম কত?

মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে বর্তমান ডিজেলের দাম যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ নয়। ২০০৮ সালে গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪ দশমিক ৭৪ ডলারের ডিজেলের দাম বর্তমান মূল্যে প্রায় ৭ দশমিক ২০ ডলারের সমান। আর ২০২২ সালের রেকর্ড ৫ দশমিক ৮২ ডলার বর্তমান মূল্যে প্রায় ৬ দশমিক ৫৬ ডলার।

তবে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বিশেষত্ব হলো, এবারও জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পেট্রলের তুলনায় ডিজেলের চাহিদাও তুলনামূলকভাবে কম নমনীয়। ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমানো সম্ভব হলেও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাক, রেল, কৃষি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যবস্থার বিকল্প দ্রুত তৈরি করা কঠিন।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ২০২৭ সালের শেষ নাগাদও যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরবে না। প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল গবেষণা বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান জিম বার্কহার্ড বলেন, বাজার এখন আর আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার পথে নেই; বরং সরবরাহ ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যালনপ্রতি ৬ ডলারের ডিজেল শুধু একটি নতুন মূল্যসীমা নয়, ইরান যুদ্ধ কীভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে বদলে দিতে পারে তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।

source: Rajneete

Back to top button