ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর নেপলস ও আশপাশের এলাকায় ৪.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটে সংঘটিত এই ভূমিকম্পে নেপলসসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে বহু বাসিন্দা নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গা ও রাস্তায় আশ্রয় নেন।
ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলক্যানোলজি (আইএনজিভি)-র অধীন ‘ভিসুভিয়ান অবজারভেটরি’র তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পোজ্জুওলির সলফাতারা এলাকার কাছে অবস্থিত বহুল আলোচিত ‘ক্যাম্পি ফ্লেগ্রেই’ অঞ্চলে। এটি ভূ-পৃষ্ঠের মাত্র ৩ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।
ইতালির সিভিল প্রোটেকশন বিভাগ জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো হতাহত বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পোজ্জুওলি ও নেপলসের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে ট্রেন ও স্থানীয় গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রেখে রেললাইনসহ অন্যান্য অবকাঠামো পরীক্ষা করা হয়।
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, ক্যাম্পি ফ্লেগ্রেই বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় ‘সুপারভলকানো’ বা মহাসুপার আগ্নেয়গিরির অঞ্চল। দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের চাপ এবং ভূ-অভ্যন্তরের পরিবর্তনের কারণে সেখানে ‘ব্র্যাডিসিজম’ (ভূমির ধীরে ধীরে ওঠানামা করার প্রক্রিয়া) চলছে। এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওই অঞ্চলে ভূমিকম্পের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভিসুভিয়ান অবজারভেটরির গবেষকরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আফটারশক (পরবর্তী মৃদু ভূমিকম্প)-এর বিষয়ে সতর্ক থাকতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
source: Rajneete







