News

‘আমরা ভাড়া খাটা গোলাম’, প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না পেয়ে ৭ কলেজ ছাত্রদল নেতাদের ক্ষোভ

‎বিগত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পরও প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ না পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকার সাত কলেজ ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেলেও ‘সুপার ইউনিট’ হিসেবে পরিচিত ঢাকার সাতটি কলেজের নেতারা বারবার বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে আক্ষেপ ও বৈষম্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বঞ্চিত ছাত্রনেতারা।

‎কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমদ ফাহিম আক্ষেপ প্রকাশ করে ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা যারা ঢাবির বাইরে অন্য ইউনিট থেকে দলের চরম দুঃসময়ে রাজনীতি করে ইউনিটের নেতৃত্ব ধরে রেখেছি, তারা কি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অধিকার রাখি না? নাকি নির্দিষ্ট ইউনিট ছাড়া যারা আমরা রাজনীতি করি তারা মূল্যহীন!’

তার ওই পোস্টের কমেন্ট বক্সে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ইমাম উদ্দীন মন্তব্য করে বলেন, ‘ঢাবির ৩৩৬ নম্বর সদস্যও ৫ আগস্টের পর এসে সাক্ষাৎ পায়, আর আমরা সারা জীবন রাজপথে বিলিয়ে দিয়েও আজ পর্যন্ত দূর থেকে সালাম দেওয়ার সুযোগ পাইলাম না। এটা এক প্রকার বেইনসাফি।’

আরো পড়ুন

একই পোস্টের কমেন্টে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সদস্য আল আমিন হোসেন জুয়েল চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমরা ভাড়া খাটা গোলাম!’

সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম রুবেল কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়কের ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করে লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রোগ্রাম হলে আমরা যাব না সিদ্ধান্ত নিন।

‎অন্যদিকে, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব মিল্লাদ হোসেন এক ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘বিগত ১৭ বছর ও জুলাই আন্দোলনে ঢাকার অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কি অবদান ছিল না? আমরা কী জেল জুলুমের স্বীকার হই নাই?’

তিনি আরও লেখেন, ‘১৬ জুলাই ঢাবি বন্ধ হওয়ার পর ঢাকা শহরের একটি বড় অঞ্চলের আন্দোলনে আমরাই নেতৃত্ব দিয়েছি। ১৯ জুলাই কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের সামনে আমি গুলিবিদ্ধ হয়ে আজও সুস্থ হতে পারি নাই। অথচ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার একটিমাত্র ইউনিটের নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর সামনে নিয়ে যান। আমাদের প্রতি যে অবিচার হচ্ছে, এর বিচার আল্লাহ করবেন।’

‎ঢাকার সাতটি কলেজের ছাত্রদল নেতাদের দাবি, আন্দোলন-সংগ্রাম ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে তাদের ভূমিকা কোনো অংশেই কম ছিল না। অথচ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার নির্দিষ্ট একটি ইউনিটকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাকি সুপার ইউনিটগুলোকে অবমূল্যায়ন করছেন। এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ দলের ত্যাগী কর্মীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

source: Asia Post

Back to top button