হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে তেলবাহী সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্রের তলদেশে পাতা মাইনের আঘাতে দুই মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি বিশাল সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, ‘অননুমোদিত’ পথ ব্যবহার করে প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় ট্যাংকারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করে, মাইনের আঘাতে জাহাজটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত তা আগুনে ছেয়ে যায়। তাদের অভিযোগ, ট্যাংকারটি নিজেদের ট্র্যাকিং ও রাডার সিস্টেম বন্ধ রেখে মার্কিন সামরিক সহায়তায় প্রতারণার মাধ্যমে প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল।
ঘটনার পর আইআরজিসির নৌবাহিনী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, “হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে।” একইসঙ্গে তারা সতর্ক করে বলে, মার্কিন সমর্থনের ওপর ভরসা করে যারা ইরানি নিয়মনীতি লঙ্ঘন করবে, তাদের অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে, ইরান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রেস টিভি একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে, যেখানে সামুদ্রিক মাইন আঘাত হানার পর সুপারট্যাংকারটিতে বিকট বিস্ফোরণ ও আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থা (ইউকেএমটিও) তাদের সাম্প্রতিক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ১২টি হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। যার মধ্যে ১০টি হরমুজ প্রণালিতে, একটি পারস্য উপসাগরে এবং অন্যটি ওমান উপসাগরে ঘটেছে।
সংস্থাটি জানায়, আক্রান্ত ৬টি জাহাজ যাত্রা অব্যাহত রাখতে বা বন্দরে পৌঁছাতে সমর্থ হলেও একটি জাহাজ সমুদ্রে তলিয়ে গেছে এবং দুটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ১৬ অক্টোবরের ওই পর্যালোচনায় বাকি তিনটি ঘটনার ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইউকেএমটিও সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রকৃত হামলার সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে; কারণ অনেক আক্রান্ত জাহাজ সরাসরি তাদের তথ্য দিচ্ছে না। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
source: Rajneete







