News

রিয়াদে হামলায় হতাহত ২৬ বাংলাদেশি কে কোথায়

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, নিহত শাহেদ আহম্মদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তার বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম। শাহেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। তার বৈধ কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা) ছিল। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে দেশে থেকে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদপুর গ্রামে। তার বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ ও মা জাহানারা বেগম। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন নাসরুল্লাহ।

নিহত দুজনের মরদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে আনা হবে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত ও ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন। তাদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা

কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিন বাংলাদেশি। তারা হলেন হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তার বাবা ইসহাক ও মা কমলা বেগম। কাজী নুরুল্লাহর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামে। তার বাবা কাজী জয়নাল মিয়া ও মা শিউলি বেগম। তারা দুজনই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এবং জেদ্দায় যাওয়ার জন্য রিয়াদ বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। অন্যদিকে, ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তিনি বিমানবন্দরে ছিলেন।

রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাফফাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম। সাফফাত অচেতন অবস্থায় আছেন। তারাও ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য রিয়াদ বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন।

রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। তাদের বাড়ি যথাক্রমে ঢাকার লালবাগের আমলিগোলা ও মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকায়। তারা দুজনই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আবদুল্লাহর বাড়ি ডেমরার পূর্ব বক্সনগরে। তিনিও ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক। আরমানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহিমনগরে। মোহাম্মদ ও ফয়সাল সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি।

কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সৌদি আরবে কর্মরত মো. রফিক মিয়া। কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা ও মো. রায়হানুল ইসলাম।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি হলেন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। তারা সবাই সৌদি আরবে কর্মরত।

এ ছাড়া এস্টার সনদ হাসপাতালে মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল, সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার এবং সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের কয়েকজনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

বিমানবন্দরে আটকে পড়েন প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি

হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকে পড়েন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া যাত্রী, ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ব্যক্তি এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ছিলেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সহায়তায় আটকে পড়া যাত্রীদের আবাসন, খাবার ও বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করে।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে থাকা প্রায় ১০০ যাত্রীর জন্য মেরিয়ট ও রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

এ ছাড়া ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরামের পোশাক পরে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের দুই বাংলাদেশিকে আল খোবারের স্থলসীমান্ত দিয়ে বাহরাইন যেতে সহায়তা করা হয়েছে।

source: Asia Post

Back to top button