আজ শুভ মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হলো দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা

আজ শুভ মহালয়া। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার পূণ্যলগ্নের সূচনা হলো। এর মধ্য দিয়েই শুরু হলো দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা। ভোরে চণ্ডীপাঠ, মন্দিরে ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। মহালয়া তিথি শুধু শারদীয় দেবীর পূজা শুরুর তিথি নয়, এই তিথি পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনারও।
পিতৃপক্ষ এবং দেবীপক্ষের সন্ধির তিথি হলো মহালয়া। মহালয়ার তাৎপর্য লুকিয়ে আছে পিতৃপক্ষ ও দেবীপক্ষের সন্ধিক্ষণে। শাস্ত্রমতে, এই তিথিতেই ক্ষয় ও অশুভ শক্তি বিনাশে দেবী দুর্গাকে মহিষাসুর বধের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই তিথিতেই দেবী দুর্গা মর্ত্যে আগমন করেন। ভোরের আলো ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই পিতৃপক্ষ শেষে শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। সকালে চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মর্ত্যে দেবী দুর্গাকে জানানো হয় আহ্বান।
মহালয়া উপলক্ষে চণ্ডীপাঠ ছাড়াও বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে মহালয়ার ঘট স্থাপন করে বিশেষ পূজা করা হয়। মূলত মহালয়া মানেই দুর্গাপূজার দিন গণনা শুরু হয়ে যাওয়া। এই বিশেষ দিনে ভক্তরা নদী বা জলাশয়ে তর্পণ করে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় জল ও তিল নিবেদন করেন। সনাতনীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষে প্রয়াত আত্মারা স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে আসেন।
দুর্গাপূজার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে এই মহালয়া। পুরাণে বলা হয়, দুর্গোৎসবের তিনটি পর্ব- মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা। পুরাণ মতে, মহালয়ার দিনে দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধের দায়িত্ব পান। শিবের বর অনুযায়ী কোনো মানুষ বা দেবতা কখনও মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারবে না।
মহামায়া অসীম শক্তির উৎস। অসীম ক্ষমতাশালী মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধীশ্বর হতে চায়। তাই ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব ত্রয়ী সম্মিলিতভাবে ‘মহামায়া’র রূপে অমোঘ নারীশক্তি সৃষ্টি করলেন এবং দেবতাদের ১০টি অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী নিয়ে দেবী দুর্গা ৯ দিনব্যাপী যুদ্ধে মহিষাসুরকে পরাজিত ও হত্যা করেন।
মূল দুর্গোৎসব শুরু হবে আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে। তবে আজ মহালয়ার মধ্য দিয়েই সারা দেশে শুরু হয়ে গেছে উৎসবের আমেজ। মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে ভোর থেকেই চণ্ডীপাঠ ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের।
source: Asia Post







