News

কানাডা হাইকমিশনে প্রদর্শিত হলো কক্সবাজারের তরুণদের নির্মিত চলচ্চিত্র

কক্সবাজারের তরুণ নির্মাতাদের নির্মিত দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে কানাডার হাইকমিশনে। ‘ক্যামেরায় গাঁথি শান্তির গল্প’ উদ্যোগের আওতায় নির্মিত চলচ্চিত্র দুটি গত মঙ্গলবার রাজধানীর বারিধারার ‘কানাডা ক্লাব’-এ প্রদর্শিত হয়। উইটনেস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং কানাডিয়ান হাইকমিশনের সহযোগিতায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

প্রদর্শনীতে কক্সবাজারের তরুণ নির্মাতা নাদিয়া হোসেনের ‘প্রহর’ ও সাজু বড়ুয়ার ‘স্বপ্নজয়ী’ চলচ্চিত্র দুটি প্রদর্শিত হয়। এতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম, সামাজিক সংকট, ভুল তথ্য ও গুজবের ক্ষতিকর প্রভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতির মতো গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়।

এর মধ্যে ‘প্রহর’ চলচ্চিত্রে ভুল তথ্য ও গুজব কীভাবে সামাজিক বিভ্রান্তি ও সহিংস পরিবেশ তৈরি করে, তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, ‘স্বপ্নজয়ী’ চলচ্চিত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা একটি উপকূলীয় পরিবারের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং উইটনেস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী। পরে কানাডিয়ান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর মার্কাস ডেভিসের সঞ্চালনায় এক আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতিসংঘের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চলচ্চিত্র দুটি দেখে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বাল্যবিবাহের মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘স্বপ্নজয়ী’ চলচ্চিত্রটি তাকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছে।

উইটনেস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন শীপা হাফিজা তরুণদের নেতৃত্বাধীন এই উদ্যোগের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, তরুণদের সৃজনশীলতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণকে কাজে লাগিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, সহিংসতামুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক সমাজ গঠনে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উইটনেস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী বলেন, একটি ক্যামেরা যখন একজন তরুণের হাতে থাকে, তখন তা শুধু দৃশ্য ধারণ করে না এটি ধারণ করে মানুষের কণ্ঠ, বাস্তবতার গল্প এবং পরিবর্তনের স্বপ্ন। কক্সবাজারের মতো প্রান্তিক অঞ্চলের তরুণদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সমাজের বাস্তবতা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

উইটনেস ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, কানাডা ফান্ড ফর লোকাল ইনিশিয়েটিভস-এর সহায়তায় পরিচালিত এই উদ্যোগে ১৯৩টি আবেদনের মধ্য থেকে প্রতিযোগিতামূলক ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় কক্সবাজারের ২৫ জন তরুণ-তরুণীকে (১১ জন নারী ও ১৪ জন পুরুষ) নির্বাচিত করা হয়।

তিন দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণে তাদের চলচ্চিত্র নির্মাণ, গল্প বলার কৌশল, নেতৃত্ব ও সুশাসন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে মেন্টরদের তত্ত্বাবধানে তরুণরা নিজেরাই চিত্রনাট্য তৈরি ও চলচ্চিত্র দুটি নির্মাণ করেন। স্থানীয় তরুণদের কণ্ঠকে বৈশ্বিক পরিসরে পৌঁছে দেওয়া এবং শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।

source: Asia Post

Back to top button