News

শিবিরের বিরুদ্ধে আম্মারের ক্ষোভ ও গুরুতর অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা, চাঁদাবাজি এবং অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে—এমন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা তার দাবি অনুযায়ী সত্য নয়।

পোস্টে আম্মার বলেন, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হলেও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে ঘটনা তিনি ঘটাননি, সেটি না করার প্রমাণ কীভাবে তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব।

নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস জীবনে কোনো নারী সহপাঠী বা জুনিয়রের সঙ্গে এমন আচরণ করেননি, যা তার ভাষায় ‘ভাইয়ের থেকে অন্যকিছু’ বোঝায়। একই সঙ্গে তিনি ছাত্রশিবিরের অভ্যন্তরে নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ তোলেন।

চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে আম্মার দাবি করেন, একটি জুলাই-ভিত্তিক কনসার্ট আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন উপাচার্য অর্থসংকটের কথা জানিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে স্পনসর সংগ্রহের পরামর্শ দেন। এরপর তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানির কাছে প্রস্তাবপত্র নিয়ে যান। আম্মারের দাবি, ওই ঘটনাকেই পরে ‘৭৬ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া’র অভিযোগ হিসেবে প্রচার করা হয়।

অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। তার দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন কমিটি গঠনের সময় রাজশাহীর কয়েকজন শিক্ষার্থী একটি কমিটি নিয়ে এলেও ওই কমিটির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তার কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পরিচিতির কারণে তাকে ওই কমিটি গঠনের সঙ্গে যুক্ত করে একটি ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নিজের ছাত্রশিবির-সংশ্লিষ্টতা নিয়েও পোস্টে বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন আম্মার। তিনি বলেন, অতীতে তিনি প্রকাশ্যেই ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এবং সংগঠনটির অফিসিয়াল গানে অভিনয় করেছেন। তার দাবি, তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও পডকাস্টে নিজের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন এবং তাকে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলা হলে তিনি তা নিয়ে ‘গোপনীয়তার’ আশ্রয় নেননি।

তবে সংগঠনটির কিছু কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বের সমালোচনা করে আম্মার বলেন, ছাত্রশিবিরের একটি শাখায় একজন ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যেতে দেখার পর তিনি সংগঠনটির নীতিমালা সম্পর্কে হতাশ হন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে তিনি অতীতে মানসিকভাবে বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখোমুখি হয়েছেন।

পোস্টের শেষাংশে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা দাবি করে আম্মার বলেন, তিনি কোনো অভিযোগের সঙ্গেই সম্পৃক্ত নন। একই সঙ্গে তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে তাকে ‘শিবির’ বলে গালি না দেওয়ার অনুরোধ করেন।

সালাহউদ্দিন আম্মারের এসব বক্তব্য তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। পোস্টে উল্লিখিত অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সত্যতা যাচাই বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এখানে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

source: Asia Post

Back to top button