ভোটের আগে শত্রু হামলার ‘আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন’ নেতানিয়াহু— অভিযোগ বিরোধী শিবিরের

ইসরায়েলের সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘শত্রুরা হামলা চালাতে পারে’ বলে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তার এই সতর্কবার্তাকে বিরোধী দল ‘আতঙ্ক ছড়ানো’র চেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এ অভিযোগ করে বলেছেন, নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি থাকলে তা পেশাদার ও দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করা উচিত, নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করা কাম্য নয়।
টাইমস অব ইসরায়েল ও আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তেল নফ বিমানঘাঁটিতে গিয়ে একটি ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু শত্রুদের হামলা নিয়ে সতর্কবার্তা দেন।
নেতানিয়াহু বলেন, নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের ‘শত্রুরা’ হামলার চেষ্টা করতে পারে— এমন ইঙ্গিত তাদের কাছে রয়েছে। যুদ্ধবিমান সামনে রেখে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলকে নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি’ না করতে এবং হামলা হলে ইসরায়েলের ‘দীর্ঘ হাত’ যেকোনো জায়গায় ও যেকোনো সময় পৌঁছাবে। তবে কোন শত্রু বা কী ধরনের হামলার আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
ইসরায়েলের ২৫তম নেসেট গত ১৭ জুলাই ভেঙে দেওয়া হয়। এর ফলে ২৬তম নেসেট নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২৭ অক্টোবর। নির্বাচনের মাত্র চার সপ্তাহ আগে নিরাপত্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এমন সতর্কবার্তা রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর জরুরি নিরাপত্তা ব্রিফিং চান লাপিদ। বৈঠকের পর তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে বলে তিনি নিশ্চিত এবং ‘জনগণকে আতঙ্কিত করার কোনো কারণ নেই।’
লাপিদ আরও বলেন, নিরাপত্তা হুমকি থাকলে সেটি পেশাদার ও দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি নির্বাচনি ভিডিও তৈরির জায়গা নয়।
নেতানিয়াহুবিরোধী মনোভাবের পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা ইস্যুও বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের হামলার আগে নেতানিয়াহু সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু ধারাবাহিকভাবে ইরান, হামাস, হিজবুল্লাহসহ আঞ্চলিক প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য হুমকির কথা তুলে ধরছেন। রয়টার্সের বিশ্লেষণ, তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কৌশল অনুযায়ী নিজেকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রধান রক্ষক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
নেতানিয়াহুকে সরাসরি আক্রমণ করে লাপিদ বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার আগে যেসব সতর্কবার্তা এসেছিল, সেগুলো উপেক্ষা করার পর এখন নির্বাচনের ২৮ দিন আগে প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ করে ‘আতঙ্ক ছড়াতে’ ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
এর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় প্রায় ১২০০ ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। ওই হামলা ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতা নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। ওই হামলার পর হামাসের সঙ্গে এখনো সংঘাত শেষ করতে পারেনি নেতানিয়াহু সরকার।
এর মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল। এই যুদ্ধ ঘিরে নেতানিয়াহুবিরোধী জনমত শক্তিশালী হয়েছে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
source: Rajneete







