মাদ্রাসাগুলোতে ন্যায্য বেতন কাঠামো নিশ্চিতের দাবি আরএনআর ফাউন্ডেশনের

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৈষম্য ও নানা ধরনের পেশাগত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায্য বেতন কাঠামো নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে রুটস অ্যান্ড রুটস ফাউন্ডেশন (আরএনআর) আয়োজিত ‘কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য: একটি জাতীয় সংকটের রূপরেখা’ শীর্ষক উন্মুক্ত সেমিনারে বক্তারা এসব দাবি জানান।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, কওমি মাদ্রাসার বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অত্যন্ত কম বেতনে দীর্ঘ সময় পাঠদান করছেন। অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের মাসিক বেতন এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা তার ন্যূনতম জীবনযাপন ব্যয় মেটানোর জন্যও যথেষ্ট নয়। অথচ এসব শিক্ষক ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন শিক্ষা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করছেন।
কওমি শিক্ষকদের বেতন ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যের ঘাটতি রয়েছে বলে জানান তারা। তারা মনে করেন, সমস্যাটির প্রকৃত আকার নির্ধারণ এবং কার্যকর নীতি প্রণয়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। এ জন্য সেমিনারে দ্রুত একটি জাতীয় জরিপ পরিচালনার দাবি জানানো হয়।
সেমিনারে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য জাতীয় ন্যূনতম বেতন কাঠামো প্রণয়ন, নিয়োগ ও কর্মপরিবেশের লিখিত নীতিমালা, পেশাগত প্রশিক্ষণ, ছুটি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
একই সঙ্গে মহিলা কওমি মাদ্রাসার নারী শিক্ষকদের বেতন ও কর্মপরিবেশ পৃথকভাবে জরিপ করে লিঙ্গভিত্তিক বেতন বৈষম্য দূর করার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।
ফাউন্ডেশন মনে করে, কওমি মাদ্রাসার স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে শিক্ষক সমাজের বেতন বৈষম্য, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি বাস্তবসম্মত জাতীয় নীতিগত আলোচনা এখন সময়ের দাবি।
সেমিনারে প্রধান আলোচকদের একজন তোফায়েল গাজালী বলেন, মাদ্রাসা কারও বাবার সম্পদ নয়। যারা মাদ্রাসায় পড়ান, তারা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল কর্মী নন। তারা একটি প্রজন্মকে শিক্ষা দিচ্ছেন। তাই তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসার স্বায়ত্তশাসন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখেই শিক্ষকদের বেতন, কর্মঘণ্টা, ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা জরুরি। মাদ্রাসার নামে স্বায়ত্তশাসন থাকবে, কিন্তু শিক্ষকরা মানবেতর বেতন পাবেন, এই ব্যবস্থা চলতে পারে না।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য দেন মাওলানা সাইফুল ইসলাম (তাকওয়া মসজিদ), মিরাজ রহমান, রিদওয়ান হাসান, আশরাফ মাহদী, মীর হুজাইফা, শাইখ উসমান গনী, হাফেজ কেফায়েত, আবদুস সাত্তার আইনী, আবদুল গাফফার, সাঈদ আবরার নদভী, আহমাদ গালিব, জাওয়াদ আহমাদ, রুহুল আমিন সাদী, আনছারুল হক ইমরান, শারাফাত শরীফ, হাসিব আর রহমান, এহসান সিরাজ, রাশিদুল আলম মোল্লা, আবুদ্দারদা আবদুল্লাহ এবং মুফতি হিফজুর রহমান।
source: Asia Post







