News

গাজা যুদ্ধে চুরি হওয়া ইসরায়েলি অস্ত্র এখন অপরাধীদের হাতে

গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুদাম থেকে চুরি হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ এখন অপরাধী চক্রের হাতে পৌঁছাচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান। এসব অস্ত্রের মধ্যে ট্যাংকবিধ্বংসী রকেটও রয়েছে।

কানের প্রতিবেদনের বরাতে মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে এখন ঠিক কত পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে, সে বিষয়ে সামরিক বাহিনীর কাছেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের আরব অধ্যুষিত সাজুর ও জালজুলিয়া শহরে চুরি যাওয়া দুটি ট্যাংকবিধ্বংসী রকেট ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে।

কানের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ধরন এবং কালোবাজারে অস্ত্রের দাম কমে যাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুদ্ধের সময় জরুরি ইউনিটগুলোর গুদাম খুলে দেওয়ার পর বড় পরিসরে অস্ত্র চুরি হয়ে থাকতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখোঁজ গোলাবারুদের কিছু অংশ সামরিক নথিতে যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে বলে দেখানো সম্ভব। ফলে প্রকৃতপক্ষে কত অস্ত্র চুরি হয়েছে, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ড্রোন ও সামরিক মানের অস্ত্রের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে কেএএন।

কানের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলে গ্রেনেড ব্যবহারের অপরাধমূলক ঘটনা ২০২৩ সালে ৭৫টি থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ৯৮৮টিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ ২০২৪ সালে গড়ে প্রায় প্রতিদিন তিনটি করে এমন ঘটনা ঘটেছে। চলতি সপ্তাহে নাজারেথে একটি ড্রোন থেকে গ্রেনেড ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।

এ ছাড়া ইসরায়েলি পুলিশের লাহাভ ৪৩৩ ইউনিটের এক তদন্তে দেখা গেছে, বেদুইন অধ্যুষিত এলাকার কিছু প্রতিষ্ঠান ভুয়া চালান ব্যবহার করে শত শত বড় মালবাহী ড্রোন কিনেছে।

কানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ড্রোনের কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। সেগুলো কোথায় বা কী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা-ও কর্তৃপক্ষ জানে না। তবে কিছু ড্রোন চোরাচালানের কাজে ব্যবহার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি পুলিশ, সেনাবাহিনী, শিন বেত এবং দেশটির সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন এসব ড্রোন ও চুরি যাওয়া অস্ত্রের কারণে তৈরি হওয়া হুমকির মাত্রা যাচাই করছে। একই সঙ্গে তা মোকাবিলার উপায়ও খোঁজা হচ্ছে।

source: Asia Post

Back to top button