News

ডার্বির আগে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইউনাইটেড সমর্থকদের বিক্ষোভ

ম্যানচেস্টার ডার্বির উত্তাপ মাঠে গড়ানোর আগেই ওল্ড ট্রাফোর্ডের বাইরে জমে উঠল প্রতিবাদ। টিকিট ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ থেকে গ্লেজার পরিবার ও স্যার জিম র‍্যাটক্লিফের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কয়েক শ সমর্থক।

ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচের আগে ওল্ড ট্রাফোর্ডের কাছে বিশপ ব্লেইজ পাবে জড়ো হন সমর্থকেরা। ‘দ্য ১৯৫৮’ নামের সমর্থকগোষ্ঠীর ডাকে আয়োজিত বিক্ষোভে ক্লাবের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। প্রতিবাদের কেন্দ্রে ছিল টিকিট পুনর্বিক্রি ঠেকাতে ইউনাইটেডের সাম্প্রতিক অভিযান।

গত জুলাই থেকে শুরু হওয়া তদন্তে সন্দেহজনক কার্যক্রমের কারণে ১ হাজার ৬১৭টি অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে ইউনাইটেড। এর মধ্যে ৬৮৫টি টিকিট অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আরও ৪৬৪ জনকে চূড়ান্ত সতর্কতা দেওয়া হয়েছে অথবা তাদের শাস্তি কমানো হয়েছে।

ক্লাবের দাবি, আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে টিকিট ব্যবস্থার গুরুতর অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া ক্ষেত্রেই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ইউনাইটেড জানিয়েছে, তদন্তে শত শত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টিকিট নিয়ন্ত্রণ, বিক্রি ও বিতরণ করা সংগঠিত চক্রও ধরা পড়েছে।

তবে দ্য ১৯৫৮-এর অভিযোগ, যথেষ্ট স্বচ্ছতা বা স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সমর্থকদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

সমর্থকগোষ্ঠীটি বলেছে, ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পরিষ্কার ও জোরালো প্রমাণ ছাড়াই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্লাবকে সমর্থন করা মানুষদের শাস্তি ও নিষিদ্ধ করছে। গুরুতর অনিয়ম বা সংগঠিত টিকিট কালোবাজারির স্পষ্ট প্রমাণ থাকলে তা দেখানো হোক। কোনো বিশ্বস্ত সমর্থককে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ বোঝা ও তা চ্যালেঞ্জ করার ন্যায্য সুযোগ না দিয়ে দোষী হিসেবে দেখা উচিত হয় নি।

প্রতিবাদের আরেকটি অংশ ছিল ওল্ড ট্রাফোর্ডের ভেতরে। সমর্থকগোষ্ঠী ‘দ্য রেড আর্মি’ স্ট্রেটফোর্ড এন্ডে তাদের নিয়মিত পতাকা প্রদর্শন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর বদলে খেলোয়াড়দের টানেলের ওপরে একটি ব্যানার রাখা হয়, যেখানে লেখা ছিল, ‘তোমরা আমাদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করছ, তা লজ্জাজনক।’

দ্য রেড আর্মির ভাষ্য, এটি শুধু একটি সমর্থকগোষ্ঠীর ক্ষোভ নয়; ম্যাচ দেখতে নিয়মিত মাঠে যাওয়া এবং সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত সমর্থকদের সম্মিলিত বার্তা।

২০০৫ সালে গ্লেজার পরিবার ইউনাইটেডের মালিকানা নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে। তবে বর্তমান বিক্ষোভে গ্লেজারদের পাশাপাশি র‍্যাটক্লিফ ও ইনেওসও সরাসরি সমর্থকদের ক্ষোভের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।

source: Asia Post

Back to top button