ছাত্রদের দেশের জন্য কাজ করতে হবে, তবে লেখাপড়া ছেড়ে নয়: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

দেশের প্রয়োজনে ছাত্রসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে লেখাপড়া ও ক্লাসের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে বই ও পাঠাগারকে শিক্ষার্থীদের জীবনের অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা ২০২৬’-এর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ছাত্রসমাজ সবকিছু করবে, দেশের বিপদে তারা এগিয়ে আসবে—যেমনটি তারা এসেছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। তারা দেশকে নতুন দিকদর্শন দিয়েছে; অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন ও স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই কাজটি আপনারা করবেন, এটি ছাত্ররাই করতে পারে। আমরা হয়তো পারব না। কিন্তু তা লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে নয়। ক্লাস ছেড়ে দিয়ে অন্য কিছু করা যাবে না। সবকিছু করতে হবে, কিন্তু ক্লাসের পড়াশোনা কোনো অবস্থাতেই ছাড়া যাবে না।
বই ও পাঠাগারের গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বইয়ের সঙ্গে পাঠাগারের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। নতুন প্রজন্ম মোবাইল ফোনে পড়ুক, ই-বুক পড়ুক কিংবা লাইব্রেরিতে গিয়ে পড়ুক—পড়ার চর্চা ধরে রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি পড়ার এই চর্চা হারিয়ে ফেলি, তবে পিছিয়ে পড়ব; আমাদের লেখাপড়ায় ফিরে আসতেই হবে। পড়াশোনা ব্যতিরেকে বিশ্বের বুকে কোনো জাতি গৌরব অর্জন করতে পারে না।
নতুন প্রযুক্তি প্রসঙ্গে ড. মঈন খান বলেন, মোবাইল ফোনে সবকিছু খারাপ নয়, এর মাধ্যমে অনেক ভালো জিনিসও শেখা যায়। নতুন প্রজন্ম ও শিশুদের সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারলে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে যাঁরা নেতৃত্বে আছেন, তাঁদের তরুণ সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখাতে হবে।
পাঠাগারকে জ্ঞানের অকৃত্রিম উৎস উল্লেখ করে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ ও শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বই ও লাইব্রেরির গুরুত্ব মানবজাতির ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
আলোচনা সভায় ড. আব্দুল মঈন খান বিএনপির সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাঁর বাবাকে বিএনপিতে যুক্ত করেছিলেন। এ কারণে বিএনপি তাঁদের ‘রক্তে মিশে রয়েছে’ এবং সেই রক্তের ঋণ তিনি পরিশোধের চেষ্টা করে যাবেন।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের আহ্বায়ক সৈয়দা ফাতেমা সালামের সভাপতিত্বে এবং ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ, সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনিসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের অন্য নেতা-কর্মীরা।
source: Asia Post







