News

রাশিয়ার গ্যাস প্ল্যান্টে আগুন: নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে ৪

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সের সিনোপেক গ্যাস ফিল্ডে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ মাহিন উদ্দিন নামে আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় ভোরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মিজানুর রহমান।

নরসিংদীর বাসিন্দা মাহিনকে নিয়ে এ ঘটনায় বাংলাদেশি নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে। বুধবার মস্কোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহিনকে দেখতে গিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। তখনও মাহিন তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং ভিডিওকলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। দূতাবাসের এই কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ২৫ আগস্ট সভোবোদনি শহরের কাছে আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) আগুনের ঘটনা ঘটে। পরদিন এক বিবৃতিতে চীনের ছয় নাগরিকসহ সাতজনের মৃত্যুর কথা জানায় এজিসিসি। পরে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া তথ্যে মৃতের সংখ্যা ১৫ জনে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন বিদেশি বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।

দ্য মস্কো টাইমসের বুধবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল জায়ান্ট সিবু এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানি সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে এজিসিসি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পকে বিশ্বের অন্যতম বড় পলিমার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে এটি চালু হওয়ার কথা। তার আগে সেখানে শেষ ধাপের পরীক্ষা চলছিল।

এজিসিসির তথ্য অনুযায়ী, পাইরোলাইসিস ইউনিটের একটি সহায়ক অংশে প্রথম আগুন লাগে। পরে আগুন অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এতে কমপ্লেক্সের মূল যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অগ্নিকাণ্ডের দুদিন পর, ২৭ আগস্ট এক বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর এবং আরেকজন নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছিলেন দূতাবাস কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। পরবর্তী সময়ে ওই দুজনের সঙ্গে আব্দুল কুদ্দুস নামে আরও একজন বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

নিহতদের মধ্যে জাকির হোসেনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। ২৬ ও ২৭ আগস্ট তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়। একই সময়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া মো. আলাল হোসেন রাজুর বাড়ি মেহেরপুরের গাংনিতে। আর আব্দুল কুদ্দুস রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হুগলবাড়ীয়ার বাসিন্দা।

মিজানুর রহমান জানান, জাকির ও রাজুর লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। কফিনবন্দির কাজও শেষ হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্গো বিমানে তাদের লাশ ঢাকায় পরিবারের কাছে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, মস্কো হাসপাতালে থাকা আব্দুল কুদ্দুস ও মাহিন উদ্দিনের লাশ দেশে পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে আরও ৬-৭ দিন সময় লাগতে পারে। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাদের লাশ বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

অগ্নিকাণ্ডে ৩৬ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় একজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যরা চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন মিজানুর রহমান।

source: Rajneete

Back to top button