News

চাপে রিপাবলিকানরা, মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে ইরান সংঘাত এড়াতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র

আমেরিকার আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন এক সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ইরান নীতি। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের ঝুলিতে থাকা সামান্য ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার তীব্র চ্যালেঞ্জ এখন দৃশ্যমান। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ কৌশলবিদরা তেহরানের সাথে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ সংঘাত এড়ানোর জন্য কূটনৈতিক ও নীতিগত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সামরিক শক্তি প্রয়োগের চেয়ে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোতেই এখন বেশি জোর দিচ্ছে ওয়াশিংটন। আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন ইরান–সংশ্লিষ্ট তেল রাজস্ব বাণিজ্যে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৬০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকায় ইরানের তেল রপ্তানি চাপে পড়েছে। তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন নাগরিকদের যুদ্ধের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

আগস্টের শেষের দিকে পরিচালিত রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এ যুদ্ধ সমর্থন করছেন, বিপরীতে ৬৩ শতাংশ নাগরিক এর বিপক্ষে। এ ছাড়া সংঘাত শুরুর পর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। ইরানে সামরিক অভিযানের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে, যা আসন্ন নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের বড় ধাক্কা দিতে পারে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সংঘাতের তীব্রতা অস্বীকার করে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি প্রতিদিন স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বড় যুদ্ধের রূপ এড়াতে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তবে সামরিক সংঘাত পুরোপুরি বন্ধের সম্ভাবনা এখনই দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, সংঘাত অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে রাখার কৌশল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ওয়াশিংটনের কৌশলগত অবস্থান লক্ষ্য করে ইরানও যদি নির্বাচনের আগে আগে সামরিক প্রতিক্রিয়া জোরদার করে, তবে মার্কিন প্রশাসন বড় সংকটে পড়তে পারে।

source: Rajneete

Back to top button