News

নিউইয়র্কের রেস্তোরাঁয় বন্দুকধারীর হামলা, প্রাণ গেল বাংলাদেশির

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে এক রেস্তোরাঁয় বন্দুকধারীর হামলায় মো. রাজু (৪৪) নামে এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন রাসেল (৩৯) নামে আরেক বাংলাদেশি। তারা দুজনেই ওই রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন। বন্দুকধারী ওই রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতের পর ব্রাউনসভিলের রকওয়ে অ্যাভিনিউয়ে ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজা’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় ওই বন্দুকধারী এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

পুলিশ নিশ্চিত করেনি বলে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে হতাহতদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি। তবে স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত রাজু নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কংশনগর গ্রামের বাসিন্দা। আহত রাসেলের বাড়িও একই জেলায়।

রাজুর স্বজনদের বরাত দিয়ে রাজনীতি ডটকমের নোয়াখালী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এক বন্দুকধারী ওই রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করে গুলি চালালে সেখানে কর্মরত রাজু ও রাসেল গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে রাজুর বুকে ও রাসেলের পায়ে গুলি লাগে। তাদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালের নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজুর মৃত্যু হয়। রাজু বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

শেখ রাসেল বলে একজন ওই রেস্তোরাঁর মালিক বলে উল্লেখ করেছে এনসিবি নিউইয়র্ক, তবে তার পরিচয় বিস্তারিত জানানো হয়নি। শেখ রাসেল এনবিসিহ নিউইয়র্ককে বলেন, বন্দুকধারীকে আমি চিনি না। সে হঠাৎ করে হাজির হলো। যতদূর দেখেছি, তার সঙ্গে তেমন একটা তর্কাতর্কিও হয়নি।

রাজু দীর্ঘদিন ধরেই ওই রেস্তোরাঁয় কাজ করছেন বলে জানান শেখ রাসেল। তিনি চমৎকার একজন মানুষ ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে আমাদের খুব ঘনিষ্ঠ ছিল। তার মৃত্যু আমার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

ব্রুকলিনে বসবাসরত নোয়াখালীর শহিদুল্লাহ কায়সার অবশ্য জানিয়েছেন, বন্দুকধারী ওই রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন। তিনি জানান, রেস্তোরাঁয় এক গ্রাহক খাবারের বিল পরিশোধ না করে চলে যাচ্ছিলেন। রাজু ও রাসেল তাকে বিল দিতে বললে এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি পিস্তল বের করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যান।

নোয়াখালীর আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাজুর মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তার মৃত্যুতে গ্রামের বাড়িতে শোকাবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার তার মরদেহ দেশে আনতে সরকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ঘটনাটি তদন্ত করছে নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি)। স্থানীয় সময় রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

source: Rajneete

আরো দেখুন
Close
Back to top button