News

উ.কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ, আগেভাগে শেষ যুক্তরাষ্ট্র-দ.কোরিয়া সামরিক মহড়া

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনায় নির্ধারিত সময়ের ছয় দিন আগেই শেষ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া। ওই মহড়া চলাকালে উত্তর কোরিয়া প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে।

শুক্রবার ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ (ইউএফএস) মহড়াটি শেষ করে দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন ও সিউল উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর একটি বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে পিয়ংইয়ং জানিয়েছে, এ পদক্ষেপ তাদের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট নয়।

দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, প্রতি বছর অনুষ্ঠিত এ সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ প্রস্তুতির অন্যতম প্রধান অনুশীলন। এ বছর মহড়াটি ১১ দিন চলার কথা ছিল এবং ২৭ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এর সময়সীমা কমিয়ে পাঁচ দিনে আনা হয়।

পাশাপাশি মহড়ার মাঠপর্যায়ের কিছু প্রশিক্ষণও বাতিল বা সীমিত করা হয়েছিল। পরে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পালটা আক্রমণ নিয়ে পরিকল্পিত দ্বিতীয় পর্যায়ের অনুশীলনটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

মহড়ার পরিসর কমানোর সিদ্ধান্তটি ট্রাম্পের উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেছেন, কিমের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার বড় ধরনের সামরিক মহড়া পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ‘অপ্রয়োজনীয় ও বৈরী সংকেত’ পাঠায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট চলতি বছরের শেষ দিকে কিমের সঙ্গে আবার বৈঠকের আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। ২০১৯ সালে ভিয়েতনামের হ্যানয় সম্মেলন ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের পারমাণবিক আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে আছে।

তবে ওয়াশিংটনের এই কূটনৈতিক উদ্যোগে এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি পিয়ংইয়ং। মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো-জং ‘অপর্যাপ্ত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার বক্তব্য, মহড়ার আকার কমানো হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মূল নীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি।

একই সময়ে বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়া প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পূর্ব সাগরের দিকে ছোড়ে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।

ক্ষেত্রবিশেষে উত্তেজনা কমানোর এই পদক্ষেপের বিপরীত ফলও দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক প্রস্তুতি। ওয়াশিংটনের আকস্মিকভাবে মহড়া কমিয়ে দেওয়ায় সিউলের ভেতরে জোটের প্রতিরোধক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া যদি একে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড় হিসেবে দেখে, তাহলে ভবিষ্যৎ আলোচনায় আরও বড় দাবি তুলতে পারে। ফলে মহড়া আগেভাগে শেষ হলেও কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা কমার বদলে এখন প্রশ্ন— ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগে কিম সাড়া দেবেন, নাকি আরও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে নিজের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়াবেন।

source: Rajneete

Back to top button