News

বার্লিনের জঙ্গলে অস্ত্রের গোপন ভাণ্ডার, রুশ গোয়েন্দা সংযোগের সন্দেহ

জার্মানির রাজধানী বার্লিনের কাছে একটি জঙ্গলে মাটির নিচে অস্ত্রের গোপন ভাণ্ডারের সন্ধান মেলার ঘটনায় রুশ গোয়েন্দা সংযোগের সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে দেশটির ফেডারেল প্রসিকিউটররা। এ ঘটনায় রোমানিয়ায় থাকা এক সন্দেহভাজনকে জার্মানিতে প্রত্যর্পণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট শুক্রবার (২১ আগস্ট) ওই গোপন অস্ত্র ভাণ্ডারের হদিস পাওয়ার কথা জানান।

ডোব্রিন্ট জানান, ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে— এমন গুরুতর সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে’ তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি জার্মানির বর্তমান ‘উচ্চ ঝুঁকি’র নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে। এতে বিদেশি কোনো শক্তির সম্পৃক্ততা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে বার্লিনের উপকণ্ঠের একটি জঙ্গল থেকে দুটি হ্যান্ডগান ও গুলি উদ্ধার করে জার্মান কর্তৃপক্ষ। দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা একটি সূত্রের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর সেখানে অভিযান চালানো হয়েছিল।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডের স্পিগেল ও সুদডয়চে সাইটুংয়ের যৌথ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অস্ত্রের ভাণ্ডারটি রুশ গোয়েন্দাদের জার্মান মাটিতে হত্যাকাণ্ড চালানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনার অংশ কি না, তা নিয়ে কয়েক মাস ধরে গোপন তদন্ত চলেছে।

ডোব্রিন্ট জানান, অস্ত্র উদ্ধারের পর সেগুলো সরিয়ে না নিয়ে অকার্যকর করে ঘটনাস্থলেই রেখে দেওয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল— ইলেকট্রনিক নজরদারির মাধ্যমে কেউ সেগুলো নিতে আসে কি না, তা শনাক্ত করা। তবে কয়েক মাসেও কেউ অস্ত্র সংগ্রহ করতে না আসায় তদন্তকারীরা ধারণা করেন, অস্ত্রের ভাণ্ডারটির সন্ধান পাওয়ার খবর সংশ্লিষ্ট এজেন্ট বা এজেন্টরা জেনে গেছে এবং এটি এখন ‘মৃত’ হয়ে গেছে।

রোমানিয়ায় থাকা সন্দেহভাজনকে ডোব্রিন্ট ‘নিচু স্তরের এজেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। চলতি বছর এ ধরনের আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জার্মান গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সিনান সেলেন এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, রুশ গোয়েন্দারা জার্মানিতে আরও আগ্রাসী কৌশল গ্রহণ করছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী, নির্বাসিত রুশবিরোধী ব্যক্তি এবং ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থকরা।

অস্ত্রের ভাণ্ডারটির সঙ্গে ইউক্রেনগামী সরবরাহব্যবস্থায় রুশ নাশকতার অভিযোগের যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে পোল্যান্ডে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বা অগ্নিসংযোগকারী উপাদান ডাকযোগে পাঠানোর পরিকল্পনার অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালে ডিএইচএলের একটি প্যাকেজে থাকা অগ্নিবোমা লিপজিগ বিমানবন্দরে একটি কার্গো কনটেইনারে বিস্ফোরিতও হয়েছিল।

এদিকে চলতি মাসে জার্মান ড্রোন নির্মাতা দোনাউস্টালের প্রধান স্টেফান থুমানকে হত্যার রুশ পরিকল্পনার খবর প্রকাশিত হয়। এর আগে জার্মান অস্ত্র নির্মাতা রাইনমেটালের প্রধান আরমিন পাপারগারকে হত্যার একটি রুশ ষড়যন্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা নস্যাৎ করেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়।

রাশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলোতে নাশকতা, হামলা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে।

source: Rajneete

Back to top button