ম্যাকে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট, মাঠের বাইরেও বড় পরীক্ষা

আগামীকাল মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় টেস্ট। মাঠে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামবে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া আর ইতিহাসের সামনে বাংলাদেশ। তবে শুধু মাঠের খেলা নয় মাঠের বাইরেও বড় পরীক্ষা দিতে হবে এই টেস্টকে। বিশেষ করে ২০৩২ অলিম্পিকের আগে।
ক্রিকেটপ্রেমী ছাড়াও ম্যাচটি ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে অলিম্পিক কর্মকর্তাদেরও। শনিবার ম্যাকের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি দেখতে ব্রিসবেন থেকে সেখানে যাচ্ছেন তাদের একটি প্রতিনিধিদল। তবে এই সফরের উদ্দেশ্য কেবল মাঠের খেলা দেখা নয়।
২০৩২ সালের ব্রিসবেন অলিম্পিকে ক্রিকেটের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার সামর্থ্য যাচাই করবেন কর্মকর্তারা। দ্য কুরিয়ার-মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিনিধিদলটি অনেকটা নীরবেই ম্যাকে গিয়ে স্টেডিয়ামের অবকাঠামো, সুযোগ-সুবিধা ও বড় আয়োজন সামলানোর সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করবে।
২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক দিয়ে ১২৮ বছর পর গেমসে ফিরছে ক্রিকেট। ব্রিসবেনের ২০৩২ আসরেও খেলাটি থাকবে বলে জোরালো ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ছয় দলের ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ফাইনাল গ্যাবায় এবং অন্য ম্যাচগুলো কুইন্সল্যান্ডের আঞ্চলিক মাঠে আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই তালিকায় শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চায় ম্যাকে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট দিয়েই প্রথমবার পাঁচ দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন করবে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা। এটি অস্ট্রেলিয়ার দ্বাদশ এবং কুইন্সল্যান্ডের চতুর্থ টেস্ট ভেন্যু হতে যাচ্ছে। ফলে মাঠটির অলিম্পিক-সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচকেই বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডারউনে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতোমধ্যে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর দলের সামনে এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের সুযোগ। ঐতিহাসিক ফলের পর ম্যাকে টেস্ট ঘিরে তৈরি হওয়া বাড়তি আগ্রহও মাঠটির আয়োজক সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মাঠটির ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। ম্যাকে প্রথম ক্রিকেট ক্লাব গঠিত হয়েছিল ১৮৬৭ সালে, শহর পরিষদ প্রতিষ্ঠারও দুই বছর আগে। ১৯৩১ সালে সেখানে সফরকারী দলের হয়ে ১৪৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যান। আবার ১৯৯২ বিশ্বকাপে ভারত ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ বৃষ্টিতে মাত্র দুই বল পর পরিত্যক্ত হয়েছিল এই মাঠেই।
ম্যাকের ক্রিকেটপ্রেমীদের সঙ্গে মাঠটির সম্পর্কও অন্য রকম। আশির দশকের শেষ দিকে স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে স্থানীয় ক্লাবের তিন সদস্য নিজেদের বাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন। এখনো ম্যাকে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মালিকানাতেই রয়েছে মাঠটি।
কুইন্সল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী টেরি সেভেনসন বলেন, ‘হ্যারাপ পার্ক যেখান থেকে শুরু করে আজ যে অবস্থানে এসেছে, সেটি অসাধারণ এক গল্প। কয়েক বছর আগে এখানে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ আয়োজনের পর জিমি পিয়ারসন বলেছিলেন, গ্যাবার বাইরে এটিই সেরা মাঠ।’
অলিম্পিক আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাবার অনেক বৈশিষ্ট্যই এখানে রয়েছে। মাঠটি নিয়ে অলিম্পিক ভেন্যু হিসেবে আলোচনা হচ্ছে এবং কুইন্সল্যান্ড ক্রিকেটও মনে করে, এটি আদর্শ একটি জায়গা।’
ম্যাকে টেস্ট তাই বাংলাদেশের জন্য শুধু সিরিজ জয়ের লড়াই নয়। এই ম্যাচের সফল আয়োজনই গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার সামনে খুলে দিতে পারে অলিম্পিকের দরজাও।
source: Asia Post







