News

কলকাতায় হোটেলে আগুন: স্ত্রী-সন্তান-শ্বশুরসহ বাংলাদেশি সাংবাদিকের মৃত্যু

ভারতের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন এক সাংবাদিক, তার স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুর। চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৫ দিন আগে তারা ভারতে গিয়েছিলেন। আজ বুধবার তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল।

নিহত দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন তিনি। অগ্নিকাণ্ডে তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে শর্ণশীষ দত্ত (৩) ও শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০) মারা গেছেন।

কুষ্টিয়ায় দেবাশীষের পারিবারিক বন্ধু ও দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদী হাসান বলেন, গত ৩ আগস্ট স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসার জন্য চেন্নাই যান দেবাশীষ। তাদের সঙ্গে কুষ্টিয়ার আরও দুজন ছিলেন। পরে সোমবার রাতে চেন্নাই থেকে বিমানে কলকাতায় যান তারা।

তৌহিদী হাসান আরও বলেন, “সেখানে একটি হোটেলে উঠেছিলেন তারা। সারাদিন ঘুরেছেন। আজকে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু আমরা জানতে পারলাম সেই হোটেলে আগুন লেগে তাদের তিনজনেরই মৃত্যু হয়েছে।”

আরো পড়ুন

বুধবার বেলা ৩টার দিকে ফোনে কথা বলার সময় দেবাশীষের কুষ্টিয়ার বাড়িতে ছিলেন তৌহিদী। এ সময় সেখানে স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যে কান্নার রোল উঠেছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে দৈনিক আজকের পত্রিকার যুগ্ম বার্তা সম্পাদক (ন্যাশনাল ডেস্ক) সৈয়দ মঈনুল হক বলেন, “কুষ্টিয়ার সাংবাদিকদের কাছ থেকে আমরা তার মৃত্যুর খবর জেনেছি। এ বিষয়ে আমরা বিস্তারিত খবর সংগ্রহ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “দেবাশীষ ছুটি নিয়ে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। তার বাড়িতে কেবল বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছে।”

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় থাকা হোটেল শিখা ইনে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন আশপাশের ভবনগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই প্রথমে জানিয়েছিল, আগুনে নিহত নয়জনই বাংলাদেশি। চিকিৎসার জন্য তারা কলকাতায় গিয়েছিলেন।

তবে কয়েক ঘণ্টা পর ওই তথ্য সংশোধন করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, নিহত একজনকে ভারতের ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। আর আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, নিহতদের ‘অধিকাংশই’ বাংলাদেশি।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, “কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি বলে আমরা শুনেছি। এর মধ্যে ৫ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি তিনজনও বাংলাদেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে আজ ভোরে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে বলে সংবাদপত্র/মিডিয়াসূত্রে জানা গেছে। এ খবর জানার সঙ্গে সঙ্গেই কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত ও আহতদের সম্পর্কে তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করেছেন।”

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যানুসারে, এ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত মোট নয়জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে স্থানীয় পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, “উপ-হাইকমিশন থেকে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনই এক পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি। এছাড়াও আহত ছয়জন বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

বাংলাদেশিদের বিষয়ে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিতে উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। পাশাপাশি উপ-হাইকমিশন একটি সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু করেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

source: Rajneete

Back to top button