News

লাতিন আমেরিকায় ‘মাদক চক্রের বিরুদ্ধে’ স্থল অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র: হেগসেথ

লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচারকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র চলমান সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌ যানে বিমান হামলার পর এবার স্থলভাগেও মাদক চোরাচালানকারী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লাতিন আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর সেনারাও অংশ নিতে পারে।

বার্তা সংস্থা এএফপি ও মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, পানামায় সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হেগসেথ এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, মাদক পাচারকারী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে স্থলভাগে অভিযান চালানোর বিষয়টি এখন যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন একটি বহুজাতিক জোটের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সমুদ্রপথে মাদকবাহী নৌ যানের বিরুদ্ধে যে ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে, স্থলভাগেও একই ধরনের কার্যক্রম চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

‘আমরা ইকুয়েডর, কলম্বিয়া এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছি, যেন স্থলভাগে মাদক পাচারকারী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে যেতে পারি,’— বলেন হেগসেথ।

তিনি আরও বলেন, ‘যেখানেই মাদক পাচার হবে, অথবা যেখানে আমেরিকার জনগণ কিংবা আমাদের অংশীদারদের জন্য হুমকি তৈরি হবে, সেখানেই তারা লক্ষ্যবস্তু হবে— যেভাবে আইএসআইএস বা আল-কায়েদা লক্ষ্যবস্তু হয়।’

হেগসেথের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মাদক পাচার বন্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এরই মধ্যে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ক্যারিবীয় অঞ্চল ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌ যানের বিরুদ্ধে বোমা হামলা চালিয়ে আসছে। এসব অভিযানে অন্তত ২১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, এসব নৌ যান মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং মার্কিন ভূখণ্ডে মাদক পৌঁছানো ঠেকাতেই অভিযানগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব হামলার বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের হত্যা করা হলে তা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পর্যায়ে পড়তে পারে।

তবে সমালোচনা সত্ত্বেও হেগসেথ নৌ যানে হামলার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মাদক পাচারকারী নেটওয়ার্কগুলোকে ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হাতে থাকা ‘প্রতিটি সক্ষমতা’ ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি সক্ষমতা ব্যবহার করে আমরা এসব নেটওয়ার্ককে ঘিরে ফেলব এবং ধ্বংস করব।

১৯ দেশের জোট, তবে মেক্সিকো বাইরে

হেগসেথ যে জোটের কথা বলেছেন, সেটি ‘আমেরিকানস কাউন্টার কার্টেল কোয়ালিশন’ নামে পরিচিত। এতে লাতিন আমেরিকার ডানপন্থি সরকারগুলোর কয়েকটি দেশ রয়েছে। আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, হন্ডুরাস ও পেরুসহ মোট ১৯টি দেশ এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত।

জোটটির লক্ষ্য শুধু সমুদ্রপথে মাদক পাচার ঠেকানো নয়, বরং মাদক উৎপাদন, পরিবহন ও বিতরণের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা। ফলে হেগসেথের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এসব অভিযান কোনো নির্দিষ্ট সীমান্ত বা জলসীমায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।

তবে এই জোটে নেই মেক্সিকো, যেটি লাতিন আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাদক উৎপাদন ও পাচারকেন্দ্র এবং বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কয়েকটি মাদক কার্টেলের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দেশটির বামপন্থি ঘেঁষা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মাদকবিরোধী সহযোগিতা নিয়ে কাজ করলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক জোটে যোগ দেয়নি।

source: Rajneete

Back to top button