নরসিংদী/টানা বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি, দাম বেড়েছে সবজির

সবজির ভান্ডার হিসেবে পরিচিত নরসিংদী জেলায় ভরা মৌসুমেও সবজির বাজারে আগুন। টানা ভারী বর্ষণে সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমেছে। ফলে জেলার পাইকারি ও খুচরা—দুই বাজারেই হু-হু করে বেড়েছে সবজির দাম। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
জেলার বিভিন্ন পাইকারি হাট ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে শত শত পাইকার সবজি কিনতে আসছেন। স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে দরদাম করে পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা সবজি সংগ্রহ করছেন।
কৃষকেরা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগের টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকার সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। তবে দাম বাড়লেও উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হওয়ায় অনেক কৃষকই সেই বাড়টি দামের সুবিধা পুরোপুরি নিতে পারছেন না। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, উৎপাদন কমার সুযোগ কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংসারে মারাত্মক চাপ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, জেলার রাধাগঞ্জ, চরসুবুদ্দি, পুটিয়া, মাহমুদাবাদ নামাপাড়া, জংলী শিবপুর, গোকুলনগর, বারৈচা, নারায়ণপুর ও মরজালসহ বিভিন্ন এলাকায় সপ্তাহজুড়ে পর্যায়ক্রমে সবজির হাট বসে। রায়পুরা, বেলাব ও শিবপুর উপজেলায় সারা বছরই বিভিন্ন জাতের সবজির বাম্পার আবাদ হয়। এসব এলাকায় উৎপাদিত সবজি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়।
পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলু ২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০, লম্বা শিম ৯০ থেকে ১০০, বেগুন ৮০ থেকে ৯০, ঢ্যাঁড়স ৭০ থেকে ৮০, কাঁচা মরিচ ২৫০, টমেটো ১০০ থেকে ১১৫, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০, ধনেপাতা ৪০ থেকে ৫০, পটোল ৭০, শসা ৬০, করলা ৮০ থেকে ৯০, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০, গাজর ১০০, পেঁপে ৩০, চালকুমড়া ৪০, মিষ্টি লাউ ৫০ থেকে ৮৫, লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং পুঁইশাক, লালশাক ও ধনেপাতা ১৫ থেকে ২৫ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে খুচরা বাজারে সেই আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০, ঢ্যাঁড়স ১০০, বেগুন ১০০, কাঁচা মরিচ ৪০০, টমেটো ১৩০, পটোল ১২০, শসা ১২০, পেঁপে ৫০, করলা ১৮০, লাউ ১২০ থেকে ১৬০ টাকা (আকার অনুযায়ী), মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা এবং পুঁইশাক ৬০ টাকা ও লালশাক ১০০ টাকা কেজি/আঁটি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
রায়পুরার কৃষক রিপন মিয়া বলেন, ১৪ শতক জমিতে ঢ্যাঁড়স চাষে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আজ ৮ কেজি ঢ্যাঁড়স ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। আশা করছি, এবার কিছুটা লাভ হবে।
উত্তর বাখরনগর গ্রামের কৃষক স্বপন বিশ্বাস বলেন, ১৬ শতক জমিতে সবজি চাষে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ করেছিলাম। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে দাম বাড়লেও ক্ষেতে উৎপাদন না থাকায় আমাদের কোনো লাভ হচ্ছে না।
পাইকারি ব্যবসায়ী সজীব মিয়া বলেন, নরসিংদীর বিভিন্ন হাট থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাকে সবজি দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। বর্তমানে আড়তেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে, তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
পাইকার আব্দুর রহিম বলেন, নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন কোনো না কোনো সবজির হাট বসে। এখানকার সবজির মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন আড়তে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।”
খুচরা বিক্রেতা কবির মিয়া জানান, হাটে পর্যাপ্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে তা-ও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আজিজুল হক বলেন, এ বছর সবজির আবাদ বেড়েছিল। তবে ভারী বর্ষণ ও টানা বৃষ্টিতে ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারদরে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই ধকল কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। নরসিংদীর উৎপাদিত সবজির মান ভালো হওয়ায় দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানিও বাড়ছে। উৎপাদন ও রপ্তানি আরও বাড়াতে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে।
source: Asia Post






