মাছ চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা, এক রাতে সব শেষ

রংপুরের পীরগাছায় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ মণ মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মাছচাষি মেহেদী হাসান। এ ঘটনায় একই গ্রামের চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের নটাবাড়ি গ্রামের পুকুরে গিয়ে মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখেন মেহেদী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসান তার বাড়ির দক্ষিণ পাশে নটাবাড়ি এলাকার জিয়াউর রহমান লিটন ও মো. আফজাল হোসেনের ৪২ শতক জমির একটি পুকুর এক মাস আগে দুই লাখ টাকা দিয়ে বন্ধক নেন। এরপর সেখানে মাছ চাষ শুরু করেন। পুকুর ও জমির মালিকানা নিয়ে মূল মালিকদের সঙ্গে একই গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলেদের বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেহেদীর অভিযোগ, গত ৬ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে পুকুরের পাশে গেলে আশরাফ আলী, সোহরাব আলী, আফতাব উদ্দিন ও মাহতাব উদ্দিন তাকে হুমকি দেন। ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে পুকুরে মাছের খাবার দিয়ে বাড়ি চলে যান তিনি। পরদিন সকালে পুকুরে গিয়ে দেখেন, মাছ মরে পানির ওপর ভেসে উঠেছে।
মেহেদী হাসানের দাবি, পুকুরে বিষ প্রয়োগের কারণে ১৫ থেকে ১৬ মণ মাছ মারা গেছে। এতে তার প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুকুরের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ তার।
মেহেদী হাসান বলেন, পুকুরে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু মাছগুলো মেরে ফেলায় আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল বলেন, পুকুরে ১৫ থেকে ১৬ মণ মাছ ছিল। মাছের খাবারসহ সেখানে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে নিজাম উদ্দিনের লোকজন হুমকি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান আব্দুল আউয়াল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আশরাফ আলী, সোহরাব আলী, আফতাব উদ্দিন ও মাহতাব উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল হক বলেন, তাম্বুলপুর ইউনিয়নের নটাবাড়ি এলাকায় মাছ নিধনের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
source: Asia Post







