সরকারি গণমাধ্যমে বরাদ্দ কমানোর উদ্যোগ, চেক প্রজাতন্ত্রে বিক্ষোভ

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের অর্থায়নব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিকল্পনার প্রতিবাদে চেক প্রজাতন্ত্রে হাজারও মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। সরকারের উদ্যোগের প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি এক দিনের ধর্মঘট পালন করেছেন দেশটির সরকারি টেলিভিশন ও বেতারের কর্মীরাও।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, লাইসেন্স ফি বাতিল করে রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে গণমাধ্যমকে অর্থ বরাদ্দ দিতে চায় সরকার। বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে। এটি করা হলে সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাবে। এতে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বায়ত্তশাসন হুমকির মুখে পড়তে পারে।
রাজধানী প্রাগসহ চেক প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন শহরে মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। একই দাবিতে এক দিনের ধর্মঘট পালন করেছেন দেশটির সরকারি টেলিভিশন ও বেতারের কর্মীরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিশের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের অর্থায়নব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত টেলিভিশন ও রেডিও লাইসেন্স ফি আদায়ের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন করা হবে। একই সঙ্গে বর্তমানের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ অর্থায়ন কমানোর প্রস্তাবও রয়েছে।
বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্রে প্রতিটি পরিবারকে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের জন্য মাসে ২০৫ ক্রাউন ফি দিতে হয়। নতুন পরিকল্পনায় এই ফি বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, এতে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কমবে এবং সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে আরও কার্যকর করা যাবে।
প্রস্তাবটির খসড়া সংসদে প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। তবে আইন হিসেবে চূড়ান্ত হওয়ার আগে আরও আলোচনা ও অনুমোদনের ধাপ বাকি রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সরকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, অর্থায়নের জন্য সরাসরি সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। অর্থ বরাদ্দ কমে যাওয়ায় কর্মী ছাঁটাই, অনুষ্ঠান ও সংবাদ উৎপাদন কমানো এবং বিভিন্ন সম্প্রচার কার্যক্রম বন্ধের আশঙ্কাও রয়েছে।
ধর্মঘটের কারণে চেক টেলিভিশন ও চেক রেডিওর নিয়মিত সম্প্রচার সীমিত হয়ে পড়ে। টেলিভিশনের ২৪ ঘণ্টার সংবাদ চ্যানেলে স্বাভাবিক সংবাদ পরিবেশনের পরিবর্তে অন্ধকার নিউজরুম দেখানো হয়। উপস্থাপকরা স্ক্রিপ্ট পড়ে দর্শকদের ধর্মঘটের কারণ জানান। বেতারেও নিয়মিত অনুষ্ঠানের পরিবর্তে সংগীত প্রচার করা হয় এবং ধর্মঘটের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়া হয়।
প্রাগে বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিল্পী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। শ্রমিক সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠনগুলোও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
ইউরোপীয় সাংবাদিক ফেডারেশন ও রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসসহ কয়েকটি সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, প্রস্তাবিত অর্থায়নব্যবস্থা রাজনৈতিক চাপের সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং সম্পাদকীয় স্বাধীনতাকে বিপন্ন করতে পারে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বাবিশ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, সরকারি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ বা রাষ্ট্রীয়করণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তার দাবি, সাধারণ মানুষের আর্থিক সুবিধা এবং সম্প্রচারমাধ্যমের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যেই এই সংস্কার।
source: Rajneete







