ট্রাম্প ব্যর্থ হয়েছেন, এবার তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোটারদের উৎসাহিত করেছেন, যেন মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তারা এমনভাবে ভোট দেন, যেন ব্যালটে ট্রাম্প নিজেই প্রার্থী। এবার তার এই পরামর্শের সঙ্গে আমরা একমত। কংগ্রেস ও অঙ্গরাজ্যগুলোর বিভিন্ন পদে প্রতিনিধি নির্বাচনের সময় আমেরিকানদের উচিত ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে বিবেচনায় রাখা।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ট্রাম্পের ব্যর্থতা, আমেরিকার গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা ও তার নির্লজ্জ দুর্নীতির কথা ভোটারদের মনে রাখতে হবে। ক্ষমতার অপব্যবহারের ক্ষেত্রে রিপাবলিকান পার্টির নীরব সমর্থনের বিষয়টিও তাদের বিবেচনায় রাখা উচিত। এসবের জন্য রিপাবলিকানদের জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে।
বর্তমান ডেমোক্রেটিক পার্টিরও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিজেদের একটি সুসংগত রাজনৈতিক কর্মসূচি তুলে ধরার ব্যর্থতা। তারপরও এ বছর ট্রাম্প ও তার দলের কারণে দেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তার বিপরীতে ডেমোক্র্যাটরাই একমাত্র বিকল্প। ডেমোক্রেটিক প্রার্থীকে ভোট দেওয়াই গত দুই বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ডেমোক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় এবং বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা আরও বাড়াতে পারে, তাহলে বিশ্বকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে— ট্রাম্প অধিকাংশ আমেরিকানের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হবে, কোনো দেশ স্বৈরতন্ত্রের দিকে এগোতে শুরু করলেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে, চলতি বসন্তে হাঙ্গেরিতে যেমনটি ঘটেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— এর ফলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের শেষ দুই বছরে তার ক্ষমতার ওপর একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যাবে।
একবার ভাবুন, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ওয়াশিংটনের চিত্র কীভাবে বদলে যেতে পারে। ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের উচ্চাকাঙ্ক্ষা অনেকটাই থেমে যাবে। জাতীয় ঋণ আরও বাড়িয়ে দেয়— এমন করছাড়ের আইন তিনি আর পাস করাতে পারবেন না। এর পরিবর্তে ডেমোক্র্যাটরা জরুরি ব্যয়সংক্রান্ত বিল ব্যবহার করে স্বাস্থ্য সহায়তা, স্কুল, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি থেকে অন্যায়ভাবে কেটে নেওয়া অর্থ ফিরিয়ে দিতে পারবেন।
কংগ্রেসে অবশেষে এমন কমিটি চেয়ারম্যান থাকবেন, যিনি প্রেসিডেন্ট ও তার নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি করতে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আগ্রহী। শুনানি, সমন জারি এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা বেআইনিভাবে সমন উপেক্ষা করলেও প্রতিনিধি পরিষদ তাদের সহায়তাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা ও অন্যদের হাজির করতে পারবে।
ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে আরও বেশি কিছু করা সম্ভব। প্রশাসনের শীর্ষ পদ ও বিচার বিভাগে নিয়োগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সিনেটের। ফলে ট্রাম্পকে টড ব্ল্যাঞ্চ, পিট হেগসেথ ও রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের মতো অযোগ্য মন্ত্রিসভার সদস্য এবং রাস ভটের মতো মতাদর্শিক কট্টরপন্থিদের নিয়োগ দেওয়া থেকে সিনেট আটকাতে পারবে।
সিনেটররা এমন ফেডারেল বিচারক নিয়োগের দাবি জানাতে পারবেন, যারা রক্ষণশীল হলেও আগের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের নিয়োগ দেওয়া বিচারকদের মতো পেশাগত মানদণ্ড পূরণ করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া কয়েকজন বিচারক এই মৌলিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। আগামী দুই বছরে সুপ্রিম কোর্টে কোনো শূন্যপদ তৈরি হলে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের এই ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
তবে যাই হোক, ট্রাম্প যে ক্ষমতায় থেকে ক্ষতি করে যাবেন, তা প্রায় নিশ্চিত। তিনি নির্বাহী আদেশ জারি করবেন, পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবেন এবং কখনো কখনো প্রথা কিংবা আইন লঙ্ঘন করে কংগ্রেসের কর্তৃত্ব অমান্যও করতে পারেন। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকা সরকার এবং সেই দলের বিরোধী একটি ক্ষমতাধর রাজনৈতিক শক্তি থাকা সরকারের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্পের আচরণের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করার এবং সেই সুযোগ কাজে লাগানোর সুযোগ এখনো আমেরিকানদের হাতে রয়েছে।
ট্রাম্পের শাসনের ২ বছরের হিসাব
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প এবং কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের কর্মকাণ্ডের হিসাব একবার পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। গত ২১ মাসে আধুনিক যুগের অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের তুলনায় তিনি গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের বেশি ক্ষতি করেছেন। সম্ভবত তার আগের সময়ের প্রেসিডেন্টদের চেয়েও বেশি। নিজের মতো করে সংবিধানকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নেওয়া শপথ ভঙ্গ করেছেন। কংগ্রেসের অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা ও ফেডারেল নিরাপত্তা আইনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন।
মেডিকেইডের অর্থায়ন, নির্বাসন আদেশ এবং অন্যান্য বিষয়ে ফেডারেল আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগকারীর ঐতিহ্য ধ্বংস করেছেন। বিচার বিভাগকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হাতিয়ারে পরিণত করেছেন। নিজের মিত্রদের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ করতে গিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও জনস্বাস্থ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাহীন ব্যক্তিদের তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন। এমন ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করেছেন, যাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনি জালিয়াতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দলীয় স্বার্থে নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে কট্টরপন্থি পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। হোয়াইট হাউজের ইস্ট উইং ভেঙে এবং ধনী মিত্রদের অনুদানে জাঁকজমকপূর্ণ সংস্কারকাজ করে তিনি প্রেসিডেন্টের বাসভবনের ঐতিহ্যকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
পররাষ্ট্রনীতিতে ইরানের বিরুদ্ধে ভুল হিসাবের ভিত্তিতে এবং বেআইনিভাবে যুদ্ধ শুরু করে তিনি মানুষের জীবন ও সামরিক সম্পদ নষ্ট করেছেন। এটি ছিল একটি কৌশলগত ভুল, যার ফলে বিশ্ব জুড়ে আমেরিকান ক্ষমতার অবস্থান থেকে পিছু হটার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতের সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে তিনি আরও অপ্রস্তুত করে তুলেছেন। দীর্ঘদিনের মিত্রদের দূরে সরিয়ে দিয়ে দেশটিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ও দুর্বল করেছেন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের ঐতিহাসিক লড়াইকে দুর্বল করেছেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন।
অর্থনীতির ক্ষেত্রেও তার নীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, প্রকৃত মজুরি কমেছে, সুদের হার বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরির হার কমে গেছে। বিপরীতে ধনী ব্যক্তি ও বড় করপোরেশনগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লাভ করেছে। এর বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। জাতীয় ঋণ এখন ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে।
ট্রাম্প দুর্নীতি ও লোভের এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করেছেন, যা নজিরবিহীন। রাজনৈতিক মিত্রদের পাশাপাশি সহিংস অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদেরও ক্ষমা করেছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি ও কূটনৈতিক ক্ষমতাসহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিভিন্ন হাতিয়ার ব্যবহার করে নিজের পারিবারিক ব্যবসা এবং ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের জন্য শত শত কোটি ডলারের মুনাফার সুযোগ তৈরি করেছেন।
শুধু ২০২৫ সালেই প্রেসিডেন্টের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে। অথচ ট্রাম্পের নির্বাহী বিভাগেরই এই খাত নিয়ন্ত্রণ করার কথা।
রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস কী করেছে?
এসব অপব্যবহার ঠেকাতে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস কী করেছে? কার্যত কিছুই না। কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া সিনেট অযোগ্য মন্ত্রিসভার সদস্য ও সরকারি সংস্থার প্রধানদের নিয়োগ অনুমোদন করেছে। বৈধ অভিবাসীদের আটক, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হাস্যকর ফৌজদারি অভিযোগ আনা, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) অর্থায়ন কমানো এবং টিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য উপেক্ষা করার সময়ও কংগ্রেস নীরব থেকেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি ধ্বংস করার বিষয়ে কোনো কংগ্রেসীয় কমিটি জবাবদিহি চায়নি। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অপ্রয়োজনীয় দুর্ভোগ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। ট্রাম্প প্রশাসন একতরফাভাবে যেসব ফেডারেল সংস্থার অর্থায়ন বন্ধ করেছে, সেগুলো সংকুচিত করার বিরুদ্ধেও কংগ্রেস কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
ট্রাম্প পরিবারের সম্পদ বৃদ্ধি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন নিয়েও কোনো কমিটি তদন্ত করেনি। অথচ এই কর্মকাণ্ড হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের নিন্দা করা পারিবারিক সুবিধা নেওয়ার ঘটনাগুলোর চেয়েও অনেক বেশি গুরুতর।
একটি দায়িত্বশীল কংগ্রেস চাইলে মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী ট্রাম্পের দুটি সিদ্ধান্ত ঠেকানোর চেষ্টা করতে পারত। একটি হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা, অন্যটি বিশ্ব জুড়ে আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ। রিপাবলিকান নেতারা সেই চেষ্টা পর্যন্ত করেননি। অল্প কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলে যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস করলেও দলীয় নেতারা সেই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন এবং নিশ্চিত করেছেন, যেন প্রস্তাবগুলো কার্যত অর্থহীন হয়ে থাকে।
প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা নিজেদের পাস করা আইনই ট্রাম্প উপেক্ষা করলেও যেন কিছু মনে করেন না। সেপ্টেম্বরে কংগ্রেস রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল পাস করে এবং প্রেসিডেন্ট তাতে সই করেন। পরে ট্রাম্প নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে জানান, তিনি নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর করবেন না। তখন অল্প কয়েকজন রিপাবলিকান আপত্তি জানান। তাদের মধ্যে দলের নেতৃত্বস্থানীয় কেউ ছিলেন না।
বর্তমান কংগ্রেসের চেয়ে কম আইন প্রণয়ন করেছে— এমন কংগ্রেসের সংখ্যা ইতিহাসে মাত্র একটি। সেটি হলো এর অব্যবহিত পূর্ববর্তী কংগ্রেস— ২০২৩ ও ২০২৪ সালে যখন রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও ডেমোক্র্যাটরা সিনেট নিয়ন্ত্রণ করত। তাদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আইন ছিল ট্রাম্পের জোর দিয়ে নাম দেওয়া ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’। বাস্তবে এটি ধনীদের জন্য বড় ধরনের সুবিধা, যা জাতীয় ঋণ ও অর্থনৈতিক বৈষম্য— দুটিই বাড়িয়ে দেয়।
প্রেসিডেন্টের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রত্যাখ্যানের সুযোগ এখন আপনার হাতে
এবারের নির্বাচনে ব্যালটে থাকা রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদেরও তাদের দলের করা এবং ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া ক্ষতির জন্য মূল্য দিতে হবে।
ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাওয়া একজন প্রেসিডেন্টের সামনে সংবিধান আইনসভাকে সরকারের তিনটি শাখার মধ্যে সমান মর্যাদার প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান হিসেবে কল্পনা করেছে। জেমস ম্যাডিসন বলেছিলেন, সরকারে কোনো একটি শাখার প্রাধান্য থাকলে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং তা ‘অবশ্যই স্বৈরতান্ত্রিক’ হয়ে ওঠে।
কিন্তু কংগ্রেস স্বেচ্ছায় তার ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করার, যুদ্ধ ঘোষণা করার, সরকারি অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়ার এবং কর আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। অথচ বর্তমান কংগ্রেসের নেতারা এসব দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতার শ্রেষ্ঠত্বের দাবির কাছে নতি স্বীকার করেছেন।
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে অধিকাংশ কংগ্রেস সদস্য এখন নিজেদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বাঁচানোর চেষ্টায় ব্যস্ত। এর মধ্য দিয়ে তারা শুধু নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছেন না, বরং ট্রাম্পের হাতে তাদের হয়রানির শিকার হওয়ার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছেন।
শুধু ভোটাররাই এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে পারেন। মঙ্গলবার সংবিধান রক্ষার দায়িত্বে অবহেলা এবং একজন রাজনীতিকের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ রয়েছে।
ট্রাম্প এতটাই অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন যে এবারের নির্বাচনটি দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইওয়া, কানসাস, টেক্সাস, ওহাইও এবং টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। তবে যেসব আমেরিকান ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাস করেন, তাদেরও ভোট দিতে উৎসাহিত হওয়া উচিত।
কংগ্রেস, গভর্নর ও অঙ্গরাজ্যের আইনসভাগুলোও ট্রাম্পের স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা চরম দলীয় স্বার্থে নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ, ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করা এবং নির্বাচনে হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা ঠেকাতে পারে। স্থানীয় কর্মকর্তারা অভিবাসন আইন প্রয়োগের নামে অপব্যবহার এবং অঙ্গরাজ্যের কর্তৃত্ব কেড়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন। ট্রাম্প নিজের স্বার্থে কাজ করলেও তারা জনগণের স্বার্থে পদক্ষেপ নিতে পারেন।
আপনার ব্যালটে থাকা কোনো রিপাবলিকান কর্মকর্তা যদি এসব বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে ট্রাম্পের বিরোধিতা করে থাকেন, তাহলে তার রাজনৈতিক সাহসিকতার পুরস্কার হিসেবে তাকে ভোট দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তবে অধিকাংশ অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে ট্রাম্পের ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকাতে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়া প্রয়োজন হবে।
বর্তমানে ২৩টি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের হাতে আইনসভার উভয় কক্ষ ও গভর্নরের পদ রয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যের কয়েকটিতে এই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জর্জিয়া, আইওয়া, ওহাইও ও নিউ হ্যাম্পশায়ার।
গণতন্ত্রের মোড় ঘোরানোর নির্বাচন
কোনো গণতন্ত্র যখন স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে, তখন আইনসভা নির্বাচনের মতো মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ভোটাররা যদি নতুন কোনো শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং জনগণের ইচ্ছাকে শক্তিশালী করেন, তাহলে সেই শাসনব্যবস্থাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার শুরু হতে পারে।
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা হয়ে উঠলে যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্তিশালী হবে।
ট্রাম্পের দল বড় ব্যবধানে হেরে গেলেও দেশটিকে বিপুল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণে কারসাজি, প্রতিনিধিত্বহীন সিনেট ও ইলেকটোরাল কলেজ ব্যবস্থার কারণে দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থা ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার আগেই যথেষ্ট গণতান্ত্রিক ছিল না। তিনি এটিকে আরও দুর্বল করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বৈষম্য চরম পর্যায়ে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। চীন ও রাশিয়া নতুন করে আগ্রাসী হয়ে উঠছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন একটি হুমকি তৈরি করছে, যা হয়তো এই শতাব্দীর গতিপথ নির্ধারণ করবে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সবচেয়ে বড় আশা হলো একটি কার্যকর সরকার। এমন সরকার, যা দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারে কলুষিত নয়।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ট্রাম্প আমেরিকার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছেন। আর রিপাবলিকান পার্টি দেশের আদর্শ ও মূল্যবোধকে অবনমিত করার ক্ষেত্রে তার আগ্রহী সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছে।
আমেরিকান জনগণের সামনে এই সপ্তাহে স্পষ্ট ভাষায় নিজেদের অবস্থান জানানোর সুযোগ রয়েছে। তারা যদি সেই সুযোগ কাজে লাগায়, তাহলে দেশকে ট্রাম্প যুগের অবসান এবং আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সূচনার আভাস দেখাতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে ১ নভেম্বর প্রকাশিত সম্পাদকীয়, রাজনীতি ডটকমের পাঠকদের জন্য ভাষান্তর করে প্রকাশ করা হলো
source: Rajneete







