সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি করলে কালো তালিকাভুক্ত হবেন ঠিকাদারেরা: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, সরকারি প্রকল্পে কোনো ধরনের পুকুরচুরি বা দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না।
রোববার (১ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে করতোয়া নদীর তীর সংরক্ষণ ও পুনঃখননকাজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, অতীতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সেসব অভিযোগ তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে খাল ও নদী খনন কর্মসূচি চলছে। এসব কাজে যাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যায়ে তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক দল এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এসব দল সরেজমিনে প্রকল্পের কাজ তদারকি করছে। প্রতি মাসে প্রকল্পের অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, খননকাজে জিও ব্যাগ ও ব্লক ব্যবহারের সঠিক হিসাব রাখা হচ্ছে কি না, খনন করা মাটি আবার নদী বা খালে পড়ছে কি না, এসব বিষয় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
কঠোর নজরদারির কারণে বিতর্কিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কেউ কেউ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন, তাদের চিহ্নিত করে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অনিয়ম করে কাজ করার সুযোগ বন্ধ হওয়ায় অনেক ঠিকাদার এখন আর কাজ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পলি জমা বা প্রাকৃতিক কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিক সুবিধা দিতে নদীর ক্ষতিসাধন কিংবা গতিপথ পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হবে না। অতীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার করতোয়া নদী খনন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী জেলা যুব ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। কর্মসূচির শুরুতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় যুব ভবনে গিয়ে শেষ হয়।
বগুড়ার জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে যুব ভবনের হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ঋণের চেক, যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ বিতরণ এবং জেলার শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক ও সফল উদ্যোক্তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
source: Asia Post






