News

রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতিদের, সৌদি বলল আকাশেই ধ্বংস

ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে অবশ্য সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে।

আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, হামলার পর সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ রিয়াদ প্রদেশ ও রাজধানীর বাসিন্দাদের জন্য জাতীয় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে দুটি সতর্কবার্তা দেয়। পরে জানানো হয়, বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে। এর আগের দিন রিয়াদের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি রাজধানীর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং সেটি ‘সঠিকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত’ করেছে।

অন্যদিকে সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি বলেন, রিয়াদের দিকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।

এ হামলা এমন একসময়ে হলো, যখন সৌদি আরব গত কয়েক দিনে হুতিদের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। এর মধ্যে গত শনিবার সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি হয় কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যেখানে সৌদি কর্তৃপক্ষের হিসাবে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন তিনজন। আরও অন্তত ২৭ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।

ওই হামলার পর কিং খালিদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলো সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

হুতিদের হামলার লক্ষ্য শুধু বিমানবন্দরেই সীমাবদ্ধ নেই। তারা সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর ধাহরানের প্রশাসনিক ভবন এবং রিয়াদের একটি আরামকো শোধনাগারেও হামলা চালানোর দাবি করেছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধাহরানে আরামকোর প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর মধ্যেই ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী হুতিদের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান জোরদার করেছে। বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল পুনর্দখলের চেষ্টা চলছে। ফলে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ এখন আবার বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গত মাসে সংঘর্ষ ফের তীব্র হওয়ার পর সেই স্থিতাবস্থা ভেঙে গেছে। হুতিরা ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং রাজধানী সানাও তাদের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।

নতুন করে রিয়াদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনা তাই শুধু আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নয়। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইয়েমেনের যুদ্ধ ক্রমেই সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে পৌঁছে যাচ্ছে এবং দেশটির বিমান চলাচল, জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করছে। আল-জাজিরার বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে, গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহে সংঘাতকে শুধু ইয়েমেনের ভেতরে আটকে রাখার সম্ভাবনা কার্যত ভেঙে পড়ে

source: Rajneete

Back to top button