News

মা-বাবার শখ পূরণে হাতির পিঠে বরযাত্রা

বিয়ের বরযাত্রা মানেই গাড়ি, মাইক্রোবাস কিংবা ঘোড়ার গাড়ি। তবে সব চেনা দৃশ্যকে পেছনে ফেলে এবার হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন গাইবান্ধার সাকিব মিয়া। পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েতে মা-বাবার শখ পূরণ করতেই এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন। আর হাতির পিঠে বরের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই কনের বাড়িতে ভিড় জমান উৎসুক মানুষ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর ইদিলপুর ইউনিয়নের চকনদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বর সাকিব মিয়া চকনদী গ্রামের সাইদ আলীর ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। কনে সুরাইয়া আক্তার একই উপজেলার হিংগারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার বড় মেয়ে।

নিজ বাড়ি থেকে বিকেল ৪টার দিকে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন সাকিব। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন একমাত্র দুলাভাই। পরিবারের অন্য সদস্য ও বরযাত্রীরা রওনা হন মাইক্রোবাসে।

পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাকিব পৌঁছান ধাপেরহাট ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে কনের বাড়িতে। ব্যতিক্রমী এই বরযাত্রাকে একনজর দেখতে সেখানে জড়ো হন বিভিন্ন বয়সি মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্কদের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক কৌতূহল।

সেখানে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুমাইয়া আকতারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। যৌতুকবিহীন এই বিয়ের দেন মোহরানা করা হয়েছে আড়াই লাখ টাকা; যা বিয়ের আসরেই নববধূকে বুঝিয়ে দেন বর। পরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতেই নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন শাকিল।

তবে হাতির পিঠে চড়ে বরের বিয়েতে যাওয়ার পেছনে রয়েছে পরিবারের আবেগঘন ইচ্ছা। বরের বোন জানান, পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েতে মা-বাবার শখ পূরণ করতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে।

শাকিল মিয়া বলেন, বিয়ে জীবনের একটি বিশেষ দিন; যা বারবার আসে না। এ ছাড়া মা-বাবার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা তাকে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করাবেন। তার ইচ্ছা এবং বিশেষ এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০ হাজার টাকা দিয়ে হাতিটি ভাড়া করে আনা হয়। মা-বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে তৃপ্তি খুশি তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাদের এলাকায় হাতির পিঠে চড়ে বরের আসার ঘটনা এবারই প্রথম। এ কারণে ব্যতিক্রমী বরযাত্রাটি দেখতে আশপাশের অনেক মানুষ ছুটে আসেন।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন জানান, মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতেই হাতির পিঠে চড়ে বিয়ের এই আয়োজন করা হয়েছে। বর ও হাতি দেখতে বিয়ে বাড়িতে ভিড় জমান শত শত মানুষ।

source: Asia Post

Back to top button