News

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গ্রামে শতাধিক ইসরায়েলি সেটেলারের হামলা, ‘বিরল’ নিন্দায় নেতানিয়াহু

অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে শতাধিক ইসরায়েলি সেটেলার বা বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় তিন ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগ ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনায় দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের এমন প্রকাশ্য নিন্দা তুলনামূলকভাবে বিরল।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার নাবলুসের দক্ষিণে উত্তর পশ্চিম তীরের জালুদ গ্রামে এ হামলা হয়। প্রায় দুই মাস আগে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার পর বাস্তুচ্যুত আল-তুবাসি পরিবারের সদস্যরা আদালতের সিদ্ধান্তে নিজেদের বাড়িতে ফিরছিলেন। ফিলিস্তিনি স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গাড়ি ছিল। পরিবারটি বাড়িতে পৌঁছানোর পর শতাধিক বসতি স্থাপনকারী সেখানে হামলা চালায়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, রাতে জালুদ এলাকায় ১০০ জনের বেশি ‘দাঙ্গাকারী’ জড়ো হয়েছিল। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে সীমান্ত পুলিশের তিন সদস্য সামান্য আহত হন, নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বসতি স্থাপনকারীরা সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন ও নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে পাথর ছোড়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি বাড়ি ও গাড়িতে আগুন দেয় বলেও সেনাবাহিনী জানিয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার ও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

নেতানিয়াহু হামলাকারীদের ‘অল্পসংখ্যক দাঙ্গাকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড ওই সম্প্রদায়ের বড় ক্ষতি করছে এবং দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা বাহিনীর কাজে বাধা দিচ্ছে। হার্জগ ঘটনাটিকে ‘নৈতিক কলঙ্ক’ এবং আইনের শাসনের ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

একই দিনে পশ্চিম তীরের আরও কয়েকটি এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। রামাল্লার উত্তর-পূর্বের আল-মুঘাইয়ির গ্রামে বসতি স্থাপনকারীরা কয়েকটি বাড়ি ও গাড়িতে হামলা চালায় এবং অন্তত পাঁচটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে এএফপি জানিয়েছে।

তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে ছয়টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। নাবলুসের দক্ষিণে ক্বারইউত গ্রামে একটি বাড়িতে ঢুকে এক বয়স্ক ফিলিস্তিনি নারীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে।

১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী তিন মিলিয়ন ফিলিস্তিনির মধ্যে বসবাস করছেন বলে এএফপি জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ হিসেবে বিবেচিত।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার দৈনিক গড় ছিল ছয়টি।

ফিলিস্তিনি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

source: Rajneete

আরো দেখুন
Close
Back to top button