ভূমধ্যসাগরে ২৬৭ আরোহী নিয়ে তলিয়ে গেল যাত্রীবাহী ফেরি

উত্তর সাইপ্রাসের গিরনে উপকূলে ২৬৭ আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী ফেরি পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রোববারের এ ঘটনায় তুর্কি সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষ, কোস্ট গার্ড, তুরস্কের নৌবাহিনী ও বেসামরিক নৌযানগুলো ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।
ফিলো দেনিজজিলিক পরিচালিত ফেরিটি ২৫৯ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু নিয়ে গিরনে থেকে তুরস্কের মেরসিনের তাসুচু বন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথেই সেটি পানিতে ডুবতে শুরু করে।
উত্তর সাইপ্রাসের প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দেশটির গণপূর্ত ও পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি তুরস্কের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানিয়েছিলেন, একজন যাত্রী মারা গেছেন। তবে মোট হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উদ্ধার হওয়া যাত্রী ও আহতদের প্রথমে গিরনে বন্দরে নেওয়া হচ্ছে। পরে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তর সাইপ্রাসের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী উস্তেল জানান, আবহাওয়া খারাপ থাকায় ফেরিটির তুরস্কে যাওয়ার যাত্রা এক দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শনিবার যাওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়ার কারণে রোববার যাত্রা শুরু করে সেটি।
উস্তেল বলেন, সমুদ্রে প্রথম ঢেউ আঘাত হানার পর দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় জাহাজটি পানিতে ডুবতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ফেরিটিকে নিরাপদে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন ক্যাপ্টেন।
এর আগে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফেরিটির পেছনের অংশ দিয়ে পানি ঢুকতে দেখার পর ক্যাপ্টেন গিরনে বন্দরের দিকে ফেরার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গিরনে বন্দর থেকে ফেরিটি ছেড়ে যায়।
তুরস্কের ইহলাস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গিরনে উপকূল থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে এটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
জরুরি বার্তা পাওয়ার পর উদ্ধারকাজে উত্তর সাইপ্রাসের নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী, কোস্ট গার্ড, বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা ও পুলিশ বিভাগের নৌ ও আকাশ ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। ওই এলাকায় থাকা তুরস্কের নৌবাহিনীর জাহাজও অভিযানে যুক্ত হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান সমন্বয়ের জন্য উত্তর সাইপ্রাসে একটি সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী উস্তেল বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে এগিয়ে এসেছেন। এলাকার যাদের নৌযান রয়েছে, তারা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান।
দুর্ঘটনার পর মাছ ধরার নৌকা ও অন্যান্য বেসামরিক নৌযানকে ফেরিটির দিকে যেতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, পানি ঢুকতে শুরু করলে কয়েকজন যাত্রী সাগরে ঝাঁপ দেন।
কোস্ট গার্ড ও উদ্ধারকারী দল যেসব আহত যাত্রীকে উদ্ধার করেছে, তাদের গিরনে বন্দরে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি। সেখান থেকে আহতদের শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে।
উত্তর সাইপ্রাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্দরের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য চিকিৎসা চাহিদা দ্রুত মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে গভীর নজর রাখছে তুরস্ক। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ জানিয়েছেন, উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযানে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, তারা এই ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছেন। ফেরিটি কী কারণে ডুবে গেল, তা জানতে তদন্তের পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
source: Asia Post







