News

কালো টাকা বৈধের সুযোগ না রাখায় ‘সতর্ক সাধুবাদ’ টিআইবির

প্রস্তাবিত বাজেটে আপাতত কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ না রাখায় সরকারকে ‘সতর্ক সাধুবাদ’ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাদের ও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট ঘোষণার পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ‘কালো টাকা সাদা’ করার সুযোগ না রাখা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তবে অতীতে দেখা গেছে, বাজেটে এ ধরনের সুযোগ না থাকলেও পরে অর্থ বিলের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মতো নানা যুক্তি দেখিয়ে তা ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হলেও এতে রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য আর্থিক লাভ হয়নি। বরং সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হয়েছেন এবং কর ফাঁকির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার এবার এই দুর্নীতিসহায়ক চর্চা থেকে সরে এসে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণাকে বাস্তবতার আলোকে নেওয়া একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন-ভাতা ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা কঠিন।

তবে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার ক্ষেত্রে কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের এবং পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রতি বছর হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

টিআইবির মতে, নতুন পে-স্কেলের অর্থায়নের পাশাপাশি এর ফলে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের অতিরিক্ত চাপও সাধারণ মানুষকে বহন করতে হবে। তাই সরকারি কর্মজীবীদের পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত কর্মসম্পাদন নিশ্চিত করতে সম্পদ বিবরণী প্রকাশ অপরিহার্য।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর প্রভাব বিবেচনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় শুল্ক-কর ছাড়ের প্রস্তাব প্রশংসার দাবি রাখে। একই সঙ্গে বাজেট বক্তৃতায় কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তার কার্যকর বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সৎ করদাতারা যাতে হয়রানিমুক্ত পরিবেশে কর দিতে পারেন, সে জন্য কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি যথেষ্ট নয়; রাজস্ব প্রশাসনের ভেতরে থাকা অসাধু ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, কর ফাঁকি দেশের রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম কারণ। ঋণনির্ভর বাজেট থেকে রাজস্বনির্ভর বাজেটে উত্তরণ ঘটাতে হলে যোগসাজশে কর ফাঁকি বন্ধ করা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দুর্নীতিমুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই।

বাজেট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো রূপরেখা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, চূড়ান্ত বাজেটে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকবে বলে তারা আশা করছেন।

source: Asia Post

Back to top button