News

‘কাপুরুষ ও জুলুমবাজ’ মোদি ভারতের জন্য ‘অস্বস্তির কারণ’: অভিজিৎ দীপকে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকে। মোদিকে ভারতের জন্য ‘অস্বস্তির কারণ’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, দেশটি এর আগে এত বড় ‘কাপুরুষ’ ও ‘জুলুমবাজ’ দেখেনি।

গতকাল শনিবার মুম্বাই থেকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আসার পথে দিল্লি পুলিশ উড়োজাহাজের ভেতর থেকে দীপকেকে আটক করে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটক থাকার পর আদালতের নির্দেশে মুক্তি পান তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে মুক্তি পেয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ। এত বড় কাপুরুষ ও জুলুমবাজ এ দেশ আগে কখনো দেখেনি।’

অভিজিৎ দীপকে মুক্তি পাওয়ার পর দাদি সাবিত্রীবাঈ শঙ্করের (৮৫) শেষকৃত্যে যোগ দিতে মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলায় নিজের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। গতকাল দিল্লিতে তাকে আটকের পর মহারাষ্ট্রে তার দাদি সাবিত্রীবাঈ শঙ্কর মারা যান। নাতি বাড়ি ফিরবেন— এই আশায় এখনো তার শেষকৃত্য করেনি পরিবার।

রোববার দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর অভিজিৎ, সিজেপির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। ৫০ হাজার টাকার বন্ডে মুক্তি পাওয়া এই তিনজনকে আগামী এক বছর শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে, এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকে বিরত থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভে সংহতি জানানোয় আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

মুক্তির পর অভিজিৎ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও আন্দোলন বন্ধ হবে না। ১০ অক্টোবরকে ‘একনায়কতন্ত্রের অবসানের শুরু’র দিন হিসেবে দেখা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সিজেপির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা সংবাদ সম্মেলন করবেন বলেও জানান অভিজিৎ।

এদিকে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রোববারও দিল্লিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যায় সিজেপি ও কয়েকটি ছাত্রসংগঠন। কনট প্লেস এলাকায় সিজেপির পাশাপাশি ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (এসএফআই), সর্বভারতীয় যুব ফেডারেশন (এআইওয়াইএফ) ও সর্বভারতীয় ছাত্র ফেডারেশনের (এআইএসএফ) সমর্থকেরা জড়ো হন। সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা জড়ো হওয়ার পর পুলিশ তাদের আটক করতে শুরু করে। এ সময় ধস্তাধস্তি ও টানাহেঁচড়ার ঘটনা ঘটে। অনেককে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়।

এ দিন কনট প্লেসে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিএমের রাজ্যসভার সদস্য জন ব্রিটাসকেও আটক করে পুলিশ। বিক্ষোভ ঘিরে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের সঙ্গে সংযোগকারী অশোক রোড, টলস্টয় রোড ও জনপথে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরিচয়পত্র ছাড়া এসব সড়কে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। শনিবার যন্তর মন্তরে সিজেপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে প্রায় সাত হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল।

এদিকে গতকাল শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো, ইন্টারনেট পরিষেবায় বিঘ্ন এবং মেট্রো ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ ওঠে। এতে জনসাধারণের চলাচলে অসুবিধা তৈরি হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়।

রোববার বিশেষ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, ব্যারিকেডের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা সচল রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আইন মেনে মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে বলেন আদালত। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলে কাউকে আটক করা যাবে না বলেও নির্দেশ দেন আদালত।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, আনন্দবাজার ও এনডিটিভি

source: Rajneete

Back to top button