মালয়েশিয়ায় পাহাড় ধসে প্রাণ গেল কুমিল্লার ফাহাদের

ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে তিন বছর আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়। পরিবারের অভাব ঘুচিয়ে প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নের প্রবাস জীবনই এখন পরিবারের কাছে পরিণত হয়েছে এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। মালয়েশিয়ার ক্যামেরন হাইল্যান্ডস এলাকায় ভয়াবহ পাহাড় ধসে মাটির নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন ফাহাদ হোসেন (২৪)।
গত ১ অক্টোবর রাতে টানা মুষলধারে বৃষ্টির পর পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফাহাদ হোসেন বরুড়া উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের সরাপতি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। গত তিন মাস ধরে মালয়েশিয়ার ক্যামেরন হাইল্যান্ডস এলাকার একটি সবজি বাগানে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, ওই রাতে ক্যামেরন হাইল্যান্ডস এলাকায় অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত হয়। একপর্যায়ে পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ে ফাহাদ যেখানে অবস্থান করছিলেন তার ওপর। মুহূর্তের মধ্যেই মাটি ও পাথরের বিশাল স্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান তিনি।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে বিপুল পরিমাণ মাটি ও পাথরের স্তূপ এবং দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশের কারণে উদ্ধারকাজে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে ফাহাদের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই সরাপতি গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে তার মরদেহের অপেক্ষায় দিন গুনছে পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় মাত্র তিন বছর আগে ফাহাদ মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিল। বিদেশের মাটিতে কাজ করে পরিবারের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিল। অথচ সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই ভয়াবহ পাহাড় ধসে তার জীবন শেষ হয়ে গেল।
বরুড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ফাহাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সকল ধরনের সহযোগিতা থাকবে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মরদেহ আনার বিষয়ে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তাও জানব এবং একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা পরিবারের পাশে প্রশাসনের সকল ধরনের সহযোগিতা থাকবে।
source: Asia Post







