News

২৫ বোয়িংয়ের পর এবার ১০ এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার পর এবার ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাস থেকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আগামী অক্টোবরেই এয়ারবাসের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, গত ৩০ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়েছিল। ওই চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

নতুন চুক্তির ১১টি উড়োজাহাজের মধ্যে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ওয়াইড বডি এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারো বডি। আগের চুক্তির একই দরে সম্পূরক এই চুক্তি করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ওয়াইড বডি—দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ও ১৩টি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং ১০টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারো বডি উড়োজাহাজ রয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, এয়ারবাসের কাছ থেকে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড বডি ও ছয়টি এ৩২১ নিও ন্যারো বডি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। টেকসই মিশ্র উড়োজাহাজ বহর গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় বহর সম্প্রসারণ

উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যাত্রী চাহিদা, বিমানের রুট পরিকল্পনা, উড়োজাহাজের পাল্লা ও যাত্রী ধারণক্ষমতা, ফ্লাইটপ্রতি সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে ওয়াইড বডি ও ন্যারো বডি উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ওয়াইড বডি উড়োজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন রুট এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে, ন্যারো বডি উড়োজাহাজ আঞ্চলিক ও স্বল্প দূরত্বের রুটে চলবে। পাশাপাশি বিমানের পুরোনো বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজও প্রতিস্থাপন করা হবে।

বহর সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মডেল অনুসরণের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বহরে বর্তমানে ১৬৭টি উড়োজাহাজ রয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে রয়েছে মাত্র ১৯টি উড়োজাহাজ।

তিনি বলেন, দেশের মোট বিমান পরিবহন চাহিদার ২০ শতাংশের কিছু বেশি পূরণ করতে পারছে বিমান। বাকি ৮০ শতাংশ বিদেশি এয়ারলাইন্সের দখলে। উড়োজাহাজের স্বল্পতা দূর করতেই সরকার এ সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগে কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

নিজস্ব আয় ও অর্থায়নে ব্যয় মেটানোর পরিকল্পনা

উড়োজাহাজ কেনার অর্থ পরিশোধের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় ও উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে উড়োজাহাজ কেনার মূল্য পরিশোধ করা হবে।

তিনি বলেন, উড়োজাহাজ সরবরাহ ধাপে ধাপে হওয়ায় অর্থ পরিশোধও পর্যায়ক্রমে করা হবে। বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, রুট থেকে আয় এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়েই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে সরাসরি জাতীয় বাজেটের ওপর চাপ পড়বে না বলে জানান তিনি।

source: Asia Post

Back to top button