জাতীয় দলের দুই অধিনায়ক কেন ‘আইকন’ নন, কারণ জানালেন তামিম

জাতীয় দলের দুই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস, সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ কিংবা শরিফুল ইসলাম কেউই জায়গা পাননি বিসিবির নতুন ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ‘ডমেস্টিক-৩’ এর আইকন ক্রিকেটারের তালিকায়। ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজি বরং এমন ক্রিকেটারদের বেছে নিয়েছে, যাদের পুরো মৌসুমজুড়ে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
লটারির মাধ্যমে ছয় দলের আইকন হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, মুশফিকুর রহিম, নুরুল হাসান সোহান, তাওহিদ হৃদয়, মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
ওয়ালটনের আইকন মিরাজ, ফরচুনের হৃদয়, এসিএমইর মোসাদ্দেক, সেভেন রিংস সিমেন্টের মুশফিক, এসিই ব্লুস্টার্সের সোহান এবং সিটিজেন ব্যাংকের আইকন হয়েছেন নাঈম।
জাতীয় দলের নিয়মিত অনেক ক্রিকেটারকে পাশ কাটিয়ে এই ছয়জনকে বেছে নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের ব্যাখ্যা, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় বিবেচনা ছিল খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা।
তামিম বলেন, ‘আমার মনে হয় বিষয়টিকে একটু ভিন্নভাবে দেখতে হবে। দিনশেষে এটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট এবং এখানে খেলোয়াড়দের অ্যাভেইলেবিলিটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
নাঈমের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘প্রথম পিকে তারা হয়তো এমন কাউকে চেয়েছে, যাকে পুরো মৌসুম পাওয়া যাবে। যেমন নাঈম শেখ এখন জাতীয় দলে খেলছে না, তাই তিন সংস্করণেই তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় বেশি।’
শান্ত, লিটন ও মোস্তাফিজের পাশাপাশি তাসকিন, শরিফুল ও ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমও আইকন হিসেবে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির পছন্দ হননি। তবে আগামী ২৬ অক্টোবরের খেলোয়াড় বাছাইয়ে তাদের দল পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
তামিম জানিয়েছেন, ওই দিন নিলাম অথবা ড্রাফট হবে। তার ভাষায়, নিলাম হলে প্রতিটি দল নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খেলোয়াড় বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে, যা ড্রাফটে পুরোপুরি সম্ভব নয়।
নতুন এই প্রতিযোগিতা বদলে দেবে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের বর্তমান কাঠামোর একটি বড় অংশ। এনসিএল টি-টোয়েন্টি, বিসিএলের চার দিনের প্রতিযোগিতা এবং বিসিএল ওয়ানডের জায়গায় আসবে ‘ডমেস্টিক-৩’। একই ফ্র্যাঞ্চাইজি তিন সংস্করণেই খেলবে।
টি-টোয়েন্টিতে হবে ১৯টি ম্যাচ, ৫০ ওভারের প্রতিযোগিতায় ১৬টি এবং চার দিনের ক্রিকেটে সাতটি ম্যাচ। ডিসেম্বরে বরিশাল বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হওয়ার কথা টি-টোয়েন্টি পর্ব। জানুয়ারিতে চার দিনের এবং আগামী মে মাসে হবে ৫০ ওভারের প্রতিযোগিতা।
ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজি বিসিবির সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি করেছে। প্রতিটি দল ২৩ সদস্যের স্কোয়াড গড়বে এবং সেই স্কোয়াডই তিন সংস্করণে তাদের মূল দল হিসেবে থাকবে।
খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের পারিশ্রমিকের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ব্যয়ের সীমাও নির্ধারণ করবে বিসিবি। বোর্ডের লক্ষ্য, একই কাঠামোর অধীনে তিন সংস্করণকে এনে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা, আর্থিক সুযোগ ও বাণিজ্যিক আকর্ষণ বাড়ানো।
source: Asia Post







