‘পার্লামেন্টের ভেতরে জামায়াত নবজাতক শিশু, বের হলেই এক দফা দেয়’

জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, দলটির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিএনপিকে সতর্ক থাকতে হবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফজলুর রহমান বলেন, যারা আমার মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, আমার মা-বোনের ইজ্জত ধ্বংস করেছিল, যারা মুনীর চৌধুরী, আলিম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার, জহির রায়হানের মতো বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামীকে আপনারা যদি খালাতো ভাই মনে করেন, তাহলে ভুল করবেন।
জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এরা যখন পার্লামেন্টে যায় তখন তারা নবজাতক শিশু। আর পার্লামেন্ট থেকে বের হয়ে বলে এক দফা দিলাম। বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়। কথাটা বলেছে জামায়াতের আমির। তাই এ বিষয়ে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।’
একপর্যায়ে জামায়াতকে সাপের সঙ্গে তুলনা করে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক করে ফজলুর রহমান বলেন, আপনারা সাপকে বিশ্বাস করবেন। একটা সাপ ও একটা জামায়াত যদি আসে, তাহলে আগে জামায়াত সম্পর্কে সাবধান হবেন, তারপরে সাপটিকে মারবেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের মতো মুনাফেক দল পৃথিবীতে আর সৃষ্টি হয়নি। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনার গলায় আপনি সাপ পেঁচিয়ে রাখছেন।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। জামায়াতকে কঠিন সময়ে বিএনপির পাশে থাকবে মনে করলে ভুল হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে ফজলুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন।
তার ভাষ্য, ২০১৪ সালে একা একা নির্বাচন করেছিল। ২০১৮ সালে দিনের ভোট নিশি রাতে করলো। ২০২৪ সালে করলো আমি-ডামির নির্বাচন। গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ছাত্রদের নেতৃত্বে দেশের মানুষ রাজপথে নেমেছিল। সেই আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা দেশ ছেড়ে চলে যান।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ফজলুর রহমান বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে যেভাবে বিএনপি এবং তার সরকার চলছে, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিকভাবে যে লাইন গ্রহণ করেছে, সেই লাইন যদি ঠিক থাকে কেউ সহজে ধাক্কা দিয়ে বিএনপিকে ফেলে দেবে, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই।
তবে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিজেদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রক্ষমতায় তারেক রহমানকে, বিএনপিকে রাখতে চাইলে নিজেদের সততা বজায় রাখেন। চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি, ক্ষমতার দাপট দেখালে মানুষ কিন্তু খুব সচেতন। আমাদের কিছু ভুল হয়নি, তা কিন্তু না।’
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ঢাকা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। আমরা পালাইনি, পালিয়েছে শেখ হাসিনা ও তার অনুসারীরা।
তিনি আরও বলেন, যারা ডিসেম্বরে দেশে আসবে বলে গল্প বলে, এটা হয়তো ২০৪০ সালে হতে পারে। কারণ তারা যেভাবে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে, তাতে তাদের মনোবল নেই, মানসিক শক্তি নেই। তবে তাদের লজ্জা-শরমও নেই। তারা পালিয়ে গিয়ে এখন বড় বড় কথা বলে ক্রেডিট নেওয়ার চেষ্টা করে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির, ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
source: Asia Post






