ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক, হরমুজে নৌচলাচলের স্বাধীনতা চাইলেন মোদি

পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তির পাশাপাশি অবাধ নৌচলাচল ও বাণিজ্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। খবর দ্য প্রিন্টের।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করেন। মোদি আবারও বলেন, সব সমস্যা সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি নৌচলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা এবং সমুদ্রযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
মোদির এই বক্তব্যকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ভারতের অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করা এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবহন হতো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার পর ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রণালিটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইরান ওমানের সঙ্গে মিলে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের একটি ব্যবস্থা নিয়েও কাজ করছে।
প্রায় ৩০ মিনিটের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ব্রিকস বিজনেস ফোরামের পর। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার ভারতে যান পেজেশকিয়ান। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটিই তার প্রথম ভারত সফর। এর আগে দুই সপ্তাহ আগে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। ব্রিকসের বৈঠকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণের জন্য পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান মোদি।
ভারত বর্তমানে ব্রিকসের চেয়ারম্যান হিসেবে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে ইরান ও ইউএই বিপরীত অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি আবুধাবি তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগও বন্ধ করেছে। এ বিরোধের কারণে ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের প্রস্তুতিমূলক বৈঠকগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো বড় যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে নয়াদিল্লি শীর্ষ সম্মেলনে একটি ঐকমত্যের ঘোষণা আদায়ের বিষয়ে আশাবাদী।
ভারত ও ইরানের রাজনৈতিক সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকলেও অর্থনৈতিক সম্পর্কে অগ্রগতি কম। ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দুই দেশের বাণিজ্য কমে যায়। চাবাহার বন্দর প্রকল্পও স্থবির হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে পাওয়া ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চলতি বছর ভারতীয় সরকারি সংস্থাগুলো প্রকল্পটি থেকে সরে গেছে এবং তাদের আর্থিক দায় মিটিয়ে দিয়েছে।
শনিবার ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে পেজেশকিয়ান ও ইউএইর ক্রাউন প্রিন্স খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের একই বৈঠকে থাকার কথা। ফলে ইরান-ইউএই বিরোধে ভারত কোনো ধরনের সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করতে পারে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।
source: Rajneete







