কলকাতায় অগ্নিদগ্ধ ৭ বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর আটকে আছে আইনি প্রক্রিয়ায়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সাতজনের মধ্যে একজনের মরদেহ কলকাতাতেই দাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
গত বুধবার রাত ২টার দিকে ‘শিখা ইন’ নামে ওই হোটেলে আগুন লাগে। সেখানে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত ৯ জনের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি।
ডয়েচে ভেলে বাংলা, আনন্দবাজার ও বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমিন, ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত ও আফসানার বাবা আকরাম আলীর পরিচয় শনাক্ত করা হয় সবার আগে। পরে আমিনবাজারের আহমেদ বাবুর পরিচয়ও শনাক্ত হয়। সবশেষে জানা যায় সাতক্ষীরার এস এম আলিমুজ্জামান ও একই এলাকার রেবতী সরকারের নাম-পরিচয়।
রেবতী সরকারের সঙ্গে ভারতে গিয়েছিলেন তার দুই সন্তান তৃষা সরকার ও অনীক সরকার। হরিদ্বার বেড়াতে যাওয়ার কারণে তারা অগ্নিকাণ্ডের রাতে হোটেলে ছিলেন না। খবর পেয়ে হরিদ্বার থেকে ফিরে তারা মায়ের মরদেহ বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
কলকাতাতেই মায়ের শেষকৃত্য করবেন জানিয়ে অনীক ডয়চে ভেলেকে বলেন, আত্মীয়-স্বজনরা বললেন এখানেই দাহ করতে। সেটাই করব। এর জন্য প্রয়োজনীয়ও কাগজপত্র, পাসপোর্ট ও ভিসার নথি আমরা জমা দিয়েছিলাম। আমরা মায়ের দাহ কলকাতায় করার অনুমতি পেয়েছি।
কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, যত দ্রুতসম্ভব তারা মরদেহগুলো বাংলাদেশে স্বজনদের হাতে তুলে দিতে চান। উপদূতাবাস বলছে, তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ। কলকাতা পুলিশের কিছু আইনি প্রক্রিয়া বাকি। সে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরে উপদূতাবাস জানিয়েছে, পুলিশের ছাড়পত্র পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য তাদের ফরেনারস রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) থেকে এনওসি বা অনাপত্তিপত্র নিতে হবে। এরপরই মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব হবে।
উপদূতাবাস আরও বলছে, এরই মধ্যে তারা তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিক ও পরিবহন সংক্রান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছেন। এখন কেবল প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হলেই তারা তাদের কাজ শুরু করবেন।
কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ওই এলাকার অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ফরেনসিক দল পুলিশকে জানিয়েছে, শিখা ইন হোটেলে একটি প্লাগ পয়েন্ট থেকে একাধিক রেফ্রিজারেটর চালানো হচ্ছিল। সেখানে অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না, ছিল না ফায়ার এক্সিট তথা জরুরি নির্গমনপথও। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের কোনো অডিটও হয়নি।
ওই একই ভবনে ছিল আরও কয়েকটি হোটেল। কেবল ওই ভবন নয়, নিউমার্কেট এলাকাতেই এমন একই ভবনে একাধিক আবাসিক হোটেল পরিচালিত হচ্ছে, যেগুলোর অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থার কোনো বালাই নেই। ওই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার কলকাতা পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ অভিযানে ১১টি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে আরও ১৭টি হোটেলকে।
source: Rajneete







