News

হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর উদ্ভাবন ‘ক্রপস ডক্টর’, গাছের ছবি থেকেই হবে রোগ শনাক্ত

কৃষিকে আরও সহজলভ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মডেশ চাকমা উদ্ভাবন করেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংবলিত ‘ক্রপস ডক্টর’ (Crops Doctor)।

রোগবালাই শনাক্ত ও সম্ভাব্য সমাধানের জন্য প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে ‘ডিজিজ ডিটেক্টর’ (Disease Detector) ফিচার। এই ফিচারটির মাধ্যমে আক্রান্ত গাছের ছবি আপলোড করলেই এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোগ শনাক্ত করে ফেলা যায় এবং সম্ভাব্য সমস্যার সমাধানও পাওয়া যায়।

বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটি ধান, গম, ভুট্টা, আলু, টমেটো, চা, আখ, পাট, সরিষা, আম, কলা, বেগুন, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও হলুদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফসলের রোগ শনাক্ত ও সমাধানের সেবা প্রদান করছে। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশে এটি ব্যবহার হচ্ছে।

উদ্ভাবক মডেশ চাকমা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী। অ্যাগ্রিকালচার বিষয়ে পড়াশোনা হওয়ায় কৃষকদের কাজকে সহজ ও সহজেই কৃষিসেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানোর ইচ্ছা থেকেই মডেশ চাকমার এই উদ্ভাবন।

দেশের বাইরের কৃষকদের কথা চিন্তা করে প্ল্যাটফর্মটিতে বাংলা ভাষার পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে ইংরেজি ভাষা। ইতোমধ্যেই এই তরুণ উদ্ভাবক চেষ্টা করছেন আরও কিছু ভাষা যুক্ত করার। যাতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীরা সহজেই নিজেদের ভাষায় প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

ডিজিজ ডিটেক্টর ফিচার ছাড়াও কৃষকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে প্লাটফর্মটিতে যুক্ত করা হয়েছে ফার্টিলাইজার ক্যালকুলেটর। যার মাধ্যমে জমির পরিমাণ ও ফসলের জাত অনুযায়ী কোন সার কত পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে, তা জানা যায়।

এ ছাড়া প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে পেস্টিসাইড ক্যালকুলেটর, যা নির্দিষ্ট পরিমাণ কীটনাশক ও পানির মিশ্রণের নিরাপদ হিসাব দিতেও সহায়তা করে।

ফসলের চাষাবাদের প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে সময়ভিত্তিক নির্দেশনা দিতে প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে ক্রপ ক্যালেন্ডার। পাশাপাশি কৃষি-সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর ও পরামর্শ দিতে যুক্ত করা হয়েছে ২৪ ঘণ্টা সচল এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করতে প্ল্যাটফর্মটিতে স্যাটেলাইট ও ইউএভি (ড্রোন) অ্যানালাইসিস সুবিধাও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বৃহৎ কৃষিজমি পর্যবেক্ষণ, ফসলের অবস্থা বিশ্লেষণ এবং মাটির উর্বরতা মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে।

তরুণ এই উদ্ভাবকের মতে, ক্রপস ডক্টর শুধু একটি প্রযুক্তি পণ্য নয়, এটি খাদ্য নিরাপত্তার হাতিয়ার। এটি ব্যবহারের ফলে সময়মতো রোগ শনাক্তে ফসলের ক্ষতি কম হবে, সঠিক ও পরিমাণ মতো সার ব্যবহারে কৃষকের খরচ সাশ্রয় হবে এবং মাটিও সুরক্ষিত থাকবে।

উদ্ভাবনের বিষয়ে মডেশ চাকমা বলেন, ‘ক্রপস ডক্টর এআইয়ের লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত গ্রামের একজন সাধারণ কৃষকও যেন বড় বাণিজ্যিক খামারের মতো একই মানের কৃষি পরামর্শ পান, সেটি নিশ্চিত করা। এআই ব্যবহার করে ফসল রক্ষা করা, উৎপাদন বাড়ানো এবং প্রতিটি বাংলাদেশি পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের স্বপ্ন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশ থেকেও কৃষকরা আমাদের এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছেন। এর ব্যবহার আরও সহজ করতে ‘ক্রপস ডক্টর’ অ্যাপস তৈরির বিষয়েও আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি শিগগির আমরা ওয়েব প্ল্যাটফর্মটিকে অ্যাপস হিসেবে সবার হাতে পৌঁছে দিতে পারব।’

source: Asia Post

Back to top button