ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পৌরশহরের স্বাধীনতা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— মো. হোসেন মিয়া (৪০), মো. জুয়েল মিয়া (৩০), রাব্বী মিয়া (২৫), রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (২৫) এবং পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল খাঁ (৩০)। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়ার অনুসারী নবগঠিত পৌর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক আপেল ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদের নেতৃত্বে একটি আনন্দমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি স্বাধীনতা চত্বরে পৌঁছালে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী রাজু আহমেদ ও শহিদুল খাঁর নেতৃত্বে ছাত্রদলের অপর একটি অংশ নতুন কমিটিকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ মিছিল বের করে। একপর্যায়ে দুপক্ষ মুখোমুখি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এতে সংসদ সদস্যের অনুসারী পাঁচজন আহত হন।
সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী এবং উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী রাজু আহমেদ অভিযোগ করেন, তিন দিন আগে জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপে অর্থের বিনিময়ে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে নিজেদের পছন্দমতো উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর থেকেই তাঁরা কমিটি বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আনন্দমিছিলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে। নতুন কমিটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। অতীতে নির্যাতন, হামলা ও মামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে নবগঠিত পৌর ছাত্রদলের আংশিক কমিটির সভাপতি এনামুল হক আপেল বলেন, ১ নভেম্বর জেলা ছাত্রদলের নেতারা কসবা উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই সংসদ সদস্যের অনুসারীরা কমিটির প্রতিবাদ করছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ১০ বছর পর নতুন কমিটি গঠন হওয়ায় বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে তারা আনন্দমিছিল বের করেন। মিছিল শেষ হওয়ার দিকে রাজু আহমেদের নেতৃত্বে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী বলেন, ঘটনার বিস্তারিত তিনি এখনও জানতে পারেননি। নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে। ১২ সদস্যের উপজেলা কমিটির পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ঘটনার পর বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ১ নভেম্বর সিরাজুল ইসলাম ইমুকে সভাপতি ও শিমুল মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ১২ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা কমিটি এবং এনামুল হক আপেলকে সভাপতি ও জুয়েল আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট পৌর কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান শাহিন ও সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী কমিটি দুটির অনুমোদন দেন। এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের একাংশ এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় ২ নভেম্বর উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের একাংশ বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় তারা জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়া ও তার ছোট ভাই এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ আবদুর রহমান সানির কুশপুত্তলিকা তৈরি করে দাহ করেন।
source: Asia Post







