নির্বাচনের ফল গ্রহণ করলেন প্রেসিডেন্ট, ইসরায়েলে সরকার গঠনের আলোচনা শুরু

জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল গ্রহণের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। তবে নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা জটিল সমীকরণে পড়েছে। এখন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দলগুলোর পরামর্শ এবং সম্ভাব্য জোট গঠনের আলোচনা— দুই প্রক্রিয়াই সমান্তরালে চলছে।
টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার (৪ নভেম্বর) জেরুজালেমে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোহলবার্গ আনুষ্ঠানিক ফল হস্তান্তর করেন।
ফল গ্রহণ করে হারজগ জানান, নতুন সরকার গঠনের জন্য তিনি পার্লামেন্টের দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ শুরু করবেন। বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই আলোচনা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলার কথা। দলগুলোর সুপারিশ ও সমর্থন বিবেচনা করে তিনি কোনো একজন সংসদ সদস্যকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন।
গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে ১২০ আসনের কনেসেটে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পায়নি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট পেয়েছে ৫৩ আসন। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি দলগুলোর জোটের আসন ৪৮। আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে মোট ১৯ আসন। ফলে সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জেরুজালেমে পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুবিরোধী চারটি দলের নেতারা এরই মধ্যে আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। তাদের লক্ষ্য, প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সরকার গঠনের প্রথম ম্যান্ডেট পাওয়া। তবে ৪৮ আসন নিয়ে তাদের পক্ষে একা সরকার গঠন সম্ভব নয়। আরব দলগুলোর ১৯ আসনের সমর্থন পেলে সংসদে ৬৭ জনের সমর্থন পাওয়া সম্ভব। কিন্তু বিরোধী জোটের নেতা আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে আপত্তি জানিয়েছেন। নাফতালি বেনেটের অবস্থানও এ বিষয়ে কঠোর। ফলে আইজেনকোটের সামনে জোট গঠনের আলোচনা সহজ হবে না।
অন্যদিকে নেতানিয়াহুও সরকার গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার জোটের আসন ৫৩ হলেও অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর সমর্থন ধরে রাখা এবং বিরোধী শিবির থেকে সমর্থন আদায়ের ওপর তার হিসাব নির্ভর করছে। প্রেসিডেন্টের কাছে দলগুলোর সুপারিশই শেষ কথা নয়;ল, কে বাস্তবে জোট গঠন করতে পারবেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
হারজগ দলগুলোকে সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষের পক্ষেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সবগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। নতুন নির্বাচন এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকে নমনীয় হতে হবে। ম্যান্ডেট পাওয়া ব্যক্তি সরকার গঠনের জন্য প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন, প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। আলোচনা ব্যর্থ হলে ইসরায়েলকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্বাচন কমিশন ফলাফল যাচাই করে ভোটের ফল বদলে দিতে পারে— এমন কোনো অনিয়মের প্রমাণ পায়নি। আরব দলগুলোর ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন নেতানিয়াহু ও তার সমর্থকেরা। প্রেসিডেন্ট হারজগ আনুষ্ঠানিক ফল গ্রহণের মাধ্যমে সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আরব ভোটারদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী বক্তব্যেরও নিন্দা করেছেন।
source: Rajneete






