আর্থিক দুশ্চিন্তায় ৭২ শতাংশ কর্মীর উৎপাদনশীলতা কমেছে

প্রতিদিনের কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করছেন দেশের ৫৫ শতাংশ কর্মী। তাদের মধ্যে ৯১ শতাংশ মনে করেন, এ প্রযুক্তি কাজের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পিছিয়ে নিয়োগদাতারা।
এসব তথ্য উঠে এসেছে মেটলাইফ বাংলাদেশের ‘এমপ্লয়ি বেনিফিটস ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সংস্করণে।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে মেটলাইফ বাংলাদেশের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এই জরিপের তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেটলাইফ বাংলাদেশের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড প্রোডাক্ট নওফেল আনোয়ার, হেড অব কমিউনিকেশনস সাইফুর রহমান।
গবেষণা বলছে, এআই কাজের চাপ কমাতে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, মানসিক ক্লান্তি কমাতে এবং আরও অর্থবহ কাজে মনোযোগ দিতে সহায়তা করে। তবে কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে উৎসাহ দেন বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রেখেছেন মাত্র ৫৮ শতাংশ নিয়োগদাতা। তাদের মধ্যে মাত্র ৩৭ শতাংশ মনে করেন, সহজেই এআই গ্রহণ করছেন কর্মীরা।
গবেষণায় আর্থিক দুশ্চিন্তার কারণে কাজের উৎপাদনশীলতা কমে যায় বলে জানিয়েছেন ৫৬ শতাংশ কর্মী (২০২৫ সালে)। আর ২০২৬ সালে এ হার বেড়ে হয়েছে ৭২ শতাংশ। কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়োগদাতাদেরও রয়েছে বলে মনে করেন এমন কর্মীর হার ৬৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮১ শতাংশ হয়েছে। অবসরজীবনের জন্য সঞ্চয়ে সহায়তা করাও নিয়োগদাতাদের দায়িত্ব বলে মনে করেন ৮৬ শতাংশ কর্মী। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৬৭ শতাংশ।
বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত আর্থিক সংকট বা খরচের সময় নিয়োগদাতার সহায়তা প্রত্যাশা করেন ৭২ শতাংশ কর্মী। অন্যদিকে, চাকরি নিয়ে কর্মীদের সামগ্রিক সন্তুষ্টির হার ২০২৫ সালের ৭৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে হয়েছে ৮৩ শতাংশ। কর্মী ও তাদের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষায় বীমাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার চাহিদাও বাড়ছে।
২০২৬ সালের গবেষণায় ৭৯ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, বীমা ও সুস্থতাসংক্রান্ত সুবিধা পেলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের আনুগত্য বাড়বে। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৭৮ শতাংশ। অবসরজীবনের প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীদের মধ্যে যাদের অবসরজীবনের কোনো পরিকল্পনা নেই, তাদের হার ২০২৫ সালের ৫৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৮১ শতাংশ হয়েছে। এ বিষয়ে সঞ্চয় ও সঞ্চিত অর্থ থেকে নিয়মিত আয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের সহায়তা চান কর্মীরা।
নিজেদের প্রয়োজন ও জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে মানানসই সুযোগ-সুবিধা পেতে বেড়েছে আগ্রহী কর্মীর হারও। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৬৫ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে বেড়ে হয়েছে ৮৬ শতাংশ। অন্যদিকে, কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ৮৫ শতাংশ নিয়োগদাতা। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৭৮ শতাংশ। গত এক বছরে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন প্রায় অর্ধেক নিয়োগদাতা।
source: Asia Post







