সিরাজগঞ্জে আ.লীগ নেতার অবৈধ বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে ফসলি জমি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ফুলজোড় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে নদীভাঙন ও কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন জমির মালিকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আলোকদিয়া গ্রামের জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ খনন করে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের ফসলি জমির দিকেও এ কার্যক্রম বিস্তৃত হচ্ছে। এতে জমির মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আগে গোপনে বালু উত্তোলন করা হলেও এখন দুর্গাপূজার ছুটিতে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বালু উত্তোলন বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী ফসলি জমির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষকরা জানান, নদীর তীরবর্তী জমিতে বিভিন্ন মৌসুমে ধান ও গম চাষ করা হয়। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর তীর দুর্বল হয়ে ভাঙন দেখা দিতে পারে এবং আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যেতে পারে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য চান আলী বলেন, নিয়মনীতি না মেনে জাকিরের নেতৃত্বে ফুলজোড় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর তলদেশের বেশ গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এ কার্যক্রম কৃষিজমির দিকেও এগিয়ে গেছে। অতিরিক্ত খননের কারণে নদীর তীরে ভাঙনের লক্ষণও দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় জমির মালিক আবদুস সাত্তার, মনিরুল, পরান আক্তার হোসেন ও শামীমসহ অনেকে বলেন, শুরুতে নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলন করা হতো। এখন উত্তোলনকারীরা ফসলি জমির দিকেও এগিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে আমাদের জমির ক্ষতি হবে এবং চাষাবাদ ব্যাহত হবে।
জাকির হোসেন বলেন, তিনি জিলানী নামের এক ব্যক্তির কাছে জমি ইজারা দিয়েছেন। ওই ব্যক্তি সেখানে বালু ও মাটি উত্তোলন করছেন। তারা নিজেরাও এ কার্যক্রমের অংশীদার বলে জানান তিনি। বালু উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে বলেও দাবি করেন জাকির।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ওই এলাকায় বালু বা মাটি উত্তোলনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, এ কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ। বালু উত্তোলনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
source: Asia Post







