ইয়েমেনে নতুন সংঘাতে দেড় সহস্রাধিক প্রাণহানি, আহত ৭ হাজার: জাতিসংঘ

ইয়েমেনে গত ৬ আগস্ট নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে নিহত ও আহতের সংখ্যা সাড়ে আট হাজার ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ সময় নিহত হয়েছেন এক হাজার ৫৭৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৯৩৯ জন।
ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। তবে নিহত ও আহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক এবং কতজন যোদ্ধা, তা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
সংস্থাটি জানিয়েছে, সর্বশেষ আট দিনেই পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। এই সময়ে ২৯২ জন নিহত ও এক হাজার ৪৮ জন আহত হয়েছেন। অর্থাৎ মাত্র আট দিনে নতুন করে এক হাজার ৩৪০ জন হতাহত হয়েছেন। ১৯ অক্টোবর একদিনেই ৪২৮ জন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়, যা এক দিনে সর্বোচ্চ।
বিশেষ করে শাবওয়া ও লাহজ এলাকায় সাম্প্রতিক সংঘাতে বড় ধরনের প্রাণহানি হয়েছে। শাবওয়ার জারদান এলাকায় একদিনেই ৪৭ জন নিহত ও ১৫৮ জন আহত হয়েছেন। লাহজে হতাহতের সংখ্যা ১৪০।
ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও চাপ বেড়েছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও অর্থসংকটে বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য খাত নতুন করে বিপদের মুখে পড়েছে।
সেপ্টেম্বরের জাতিসংঘের এক ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএইচও জানিয়েছিল, সংঘাতের নতুন মাত্রায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
সংঘাতের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ডব্লিউএইচওর সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, নতুন করে সংঘাত শুরুর পর আটটি গভর্নরেটে এক লাখ ২২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। তাদের অনেকেই আগে একাধিকবার ঘরছাড়া হয়েছেন এবং নতুন করে চিকিৎসাসেবা ও মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে সংকটে পড়েছেন।
ইয়েমেনে সংঘাতের নতুন পর্যায় শুরু হয় ৬ আগস্ট। জাতিসংঘের বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ তখন সতর্ক করেছিলেন, ২০২২ সালের জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর দেশটি আবার বড় আকারের সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। একই সময়ে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্রদের লড়াই এবং লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও বাড়তে থাকে।
নতুন এই সংঘাতের প্রভাবে শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুতিদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের ভেতরে পালটা সামরিক তৎপরতা বাড়ায় আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
source: Rajneete







