News

যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি কী, জেনে নিন বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (ডিবি) বা জনপ্রিয় গ্রিন কার্ড লটারি পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন ফেডারেল আদালত। এতে বহু অপেক্ষমাণ আবেদনকারী দেশটিতে স্থায়ী বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়ার এই সুযোগ পেতে যাচ্ছেন।

দেশটির আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নতুন বিজ্ঞপ্তির সময়সূচি প্রকাশ করতে হবে এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইনে সরাসরি আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে।

ডিভি লটারি কী

ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি হলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি অভিবাসন কর্মসূচি, যার মাধ্যমে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে স্থায়ীভাবে দেশটিতে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়। যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম তারাই এতে অংশ নিতে পারে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ব্যক্তিরা ‘গ্রিন কার্ড’ পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী নাগরিকত্ব পান।

ডিবি ভিসায় কারা যেতে পারেন

এর মাধ্যমে ছয়টি ভৌগোলিক অঞ্চলে—আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকা (যার মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান দেশসমূহ অন্তর্ভুক্ত)—ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার কম এমন নির্বাচিত দেশগুলোর অধিবাসীদের মধ্য থেকে বিশেষভাবে বাছাই করা অল্প সংখ্যক বিদেশী নাগরিককে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা কার্ড প্রদান করা হয়।

দেশগুলোর তালিকা প্রতি বছর পরিবর্তিত হয়। প্রতি বছর, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিশ্বজুড়ে অভিবাসীদের মধ্য থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য গ্রিন কার্ড প্রদান করে। এই শ্রেণীর অভিবাসীরা ‘ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট’ বা ‘বৈচিত্র্য অভিবাসী’ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রে আরও বৈচিত্র্য আনার জন্য কংগ্রেস এই ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রোগ্রামটি চালু করেছে। প্রতি বছর ৫৫ হাজারের বেশি ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি মঞ্জুর করা হয় না।

বাংলাদেশ নিয়ে দূতাবাসের সতর্কতা

ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ আর ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্য নয়। ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি এই ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন বলে বাংলাদেশ এই যোগ্যতা হারিয়েছে। কারণ ডিভি কর্মসূচি সেই দেশগুলোর জন্য যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার তুলনামূলকভাবে কম।

প্রতারণা থেকে দূরে থাকার আহ্বান

দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নাগরিক ও অধিবাসীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার আবেদনের জন্য ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। দূতাবাস নিয়মিতভাবে ভিসা জোগাড় করে দেওয়া বিষয়ক প্রতারণামূলক সহায়তার প্রস্তাব, ই-মেইল, চিঠি, ওয়েবসাইট, ফোন কল, এসএমএস এবং পত্রিকায় ছাপা বিজ্ঞাপনের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে থাকে।

এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং এমন কোন সেবা দেওয়ার জন্য দূতাবাস তাদের অনুমোদন, সনদ বা অনুমতি দেয়নি বলে জানিয়ে দেওয়অ হয়।

ডিবি প্রোগ্রামের জন্য বর্তমানে যারা অযোগ্য

এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কানাডা, চীন (মূল ভূখণ্ডের জন্ম), কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক , ইকুয়েডর, এল সালভাদর, হাইতি, ভারত, জ্যামাইকা, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য (উত্তর আয়ারল্যান্ড বাদে) এবং এর নির্ভরশীল অঞ্চল এবং ভিয়েতনাম।

যে নির্দেশ দিলেন ফেডারেল আদালত

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ দিন চালু থাকতে পারে। তবে আবেদনকারীদের চূড়ান্ত সময়সূচি, যোগ্যতার শর্ত ও আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

মামলাটি করেছিল রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ ছিল, নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণ শুরু না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কার্যত কর্মসূচিটি আটকে রেখেছে। এতে আবেদনকারীদের পাশাপাশি লটারি-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে আদালতে দাবি করা হয়।

মামলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং পররাষ্ট্র দপ্তরকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর আবেদন গ্রহণ শুরু করলে কর্মসূচির নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বিচারক মনে করেন, শুধু সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার কারণে কংগ্রেস অনুমোদিত কর্মসূচি বন্ধ রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে তিনি লটারি চালুর নির্দেশ দেন।

source: Asia Post

Back to top button